বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩০ পিএম
রাকসু ভবন। ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে থাকা ও বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা এবং ছাত্রত্ব শেষ হওয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে এই খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাকসু’র গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে এসব নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাকসু’র গঠনতন্ত্রের ৩(গ) ধারা অনুযায়ী, “বিশ্ববিদ্যালয় বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেআইনি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে একাডেমিক প্রোগ্রাম থেকে স্থগিত করা হয়েছে এমন শিক্ষার্থীরা সদস্যপদ লাভের যোগ্য হবেন না।”
শাস্তিপ্রাপ্তরাও ভোটার
গত ১২ ডিসেম্বর সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, র্যাগিং, ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও সিট বাণিজ্যের মতো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগের একাধিক নেতাসহ ৩৩ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী ও বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও শাস্তি দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত দুজন ছাত্রলীগ নেতার নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেনÑ মাদার বখশ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার রায় (ক্রমিক ১৪৬) এবং একই হলের ছাত্রলীগ কর্মী মিশকাত হাসান (ক্রমিক ৪৪৭)।
একইভাবে, দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত চার ছাত্রলীগ নেতাকেও ভোটার তালিকায় দেখা গেছে। তারা হলেন- বিজয়-২৪ (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম (ক্রমিক ৩৮১), নবাব আব্দুল লতিফ হলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম রেজা (ক্রমিক ১৮৫) এবং ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আত তাসরিফ (শাহ মখদুম হল, ক্রমিক ৩৫৩)।
এছাড়া এক বছরের জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত আলফি শারিন আরিয়ানার নাম রোকেয়া হলের ভোটার তালিকার ৫৭৯ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়া আরও অনেক ছাত্রলীগ নেতার নামও বিভিন্ন হলের তালিকায় পাওয়া গেছে।
সাবেক শিক্ষার্থী ও সমন্বয়কের নাম
তালিকায় নাম এসেছে ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরও। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জি কে এম মেশকাত চৌধুরীর (মিশু) স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশিত হয়েছে গত ১২ নভেম্বর। অথচ শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ভোটার তালিকায় ২২৪ নম্বরে তার নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে মেশকাত চৌধুরী বলেন, ‘আমার ছাত্রত্ব অনেক আগেই শেষ। ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা নয়। যেহেতু অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে, আশা করি বিষয়টি সমাধান করা হবে।’
শুধু মেশকাতই নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকশ সাবেক শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাদ পড়েছেন আইবিএ শিক্ষার্থীরা
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) ৫ম থেকে ৮ম ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থীর নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে ৯ম ব্যাচের এবং হলে আসন বরাদ্দ পাওয়া অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নাম তালিকায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নজরে আসার পর নির্বাচন কমিশন থেকে আমার কাছে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী তালিকা চাওয়া হয়। আমি তালিকা প্রস্তুত করে পাঠিয়েছি।’
খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ নিজ হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা সমাধান করতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তালিকাগুলো হল প্রশাসন, রেজিস্ট্রার দপ্তর ও আইসিটি সেন্টার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন রাকসু’র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যারা ভোটার হওয়ার অযোগ্য, তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো অছাত্র বা বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীকে ভোটার তালিকায় রাখা হবে না। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই এটি সংশোধন করা হবে।’