× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি

ছাত্রলীগ সর্বপ্রথম বিতাড়িত হয় জাবি ক্যাম্পাস থেকে

রাজিব রায়হান, জাবি প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫৯ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সব সময় সরব থাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের যে কোন অন্যায়ের ঘটনায় বরাবরই প্রতিবাদমুখর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কোটা আন্দোলনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর টিয়ারশেল, গুলিবর্ষণ ও মিথ্যা মামলা কোন কিছুতেই দমিয়ে রাখতে পারেনি শিক্ষার্থীদের। ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলার পর সর্বপ্রথম ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন এনে দেয় চূড়ান্ত বিজয়।

জুলাইয়ের আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, স্বৈরাচারের পতন এবং নতুন বাংলাদেশ সকলের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ জিতু। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ছিলেন। 

তিনি বলেন, ২১ শতকে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে বৈষম্যমূলক ৫৬% কোটা বাতিল ও ন্যায়সংগত নিয়োগের দাবিতে আমি ১ থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। ২৪-এর আন্দোলনের সময় জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর তৎকালীন ছাত্রলীগ একাধিক দফায় ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। ১৪ ও ১৫ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। ১৫ জুলাইয়ের সন্ধ্যায় হামলায় আমাকেও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

৫ আগস্ট সকাল ১০টায় আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে লংমার্চে রওনা দিই। দুপুর ১টায় সাভারের নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। ঠিক দুপুর আড়াইটার দিকে খবর আসে—স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। প্রথমে গুজব মনে হলেও একের পর এক নিশ্চিত খবরে বুঝেছিলাম—এই ত্যাগ বৃথা যায়নি। বিজয়ের আনন্দ আর শহীদের শোক মিলিয়ে সেই দিনটি আমার কাছে স্বাধীনতার নতুন মুহূর্তের সাক্ষি হয়ে আছে।

তবে গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলোপ, প্রশাসনিক সংস্কার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং গণঅভ্যুত্থানের সময়কার হত্যাকাণ্ডের বিচার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে নতুন সরকার সেই স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি বাতিল হয়নি, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি রোধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যায়ন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মালিহা নামলাহ বলেন, 

আমি পরিপূর্ণভাবে নেতৃত্বের অবস্থানে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হই ১৫ জুলাই থেকে। দিনে রাজপথে আর রাতে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে থেকেই যুদ্ধের দিনগুলো কাটে। ১৫ জুলাই রাতে ভিসির বাসভবনে ছাত্রলীগ মারণাস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদের উপর। এরপর পুরো ক্যাম্পাস জড়ো হয়ে বাঁচায় আমাদেরকে। 

৩৬ জুলাই যখন আমরা লং মার্চ টু ঢাকার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে রওনা হই, তখন আমাদের মিছিলে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু হয়। হাসিনা যখন পালায় তখনও আমরা গোলাগুলির মাঝে।

জুলাই আমাদের জন্য ছিলো হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসকের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া। জুলাই পরবর্তী রাষ্ট্রে বৈষম্য ও দুর্নীতি থাকবে না, ন্যায়বিচার থাকবে, মানুষ তার ন্যায্য অধিকার বুঝে পাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল।

কবিতা আবৃত্তি করে আলোচনায় আসেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাথে নীতিগতভাবে প্রথম থেকেই একমত ছিলাম। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে যখন সহিংসতার মাধ্যমে সরকার দমন করতে চাইলো, তখন আমরাই জাহাঙ্গীরনগর থেকে প্রথম বলেছিলাম জুলাই ম্যাসাকার হচ্ছে। গুলি, গুম, খুন এবং রেড দিয়ে অ্যারেস্ট করে জুলাই ম্যাসাকার করেছিল। আর জুলাই ম্যাসাকার হয়েছিল আমার অস্তিত্বের উপর। শিক্ষার্থীরাই হল আমার অস্তিত্ব আর যখন তাদের উপর ম্যাসাকার হয়েছিল তখন সেটা আমার থেকে দূরে ছিল না। তাই আন্দোলনের সাথে যুক্ত না হওয়ার কোন সুযোগই ছিল না। এটা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গত ১৫ বছরের যে বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল এ অভ্যুত্থানে। যার নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্ররাই।

তবে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সরকার প্রধান একজনকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হাজির করলো। কিছু সমন্বয়ক, একটা বিশ্ববিদ্যালয় তারা পুরো গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিল। গণঅভ্যুত্থানের স্টেক হোল্ডার যারা ছিল, তাদের কাউকেই সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। সবথেকে দুঃখের বিষয় জুলাই শহীদদের সম্পূর্ণ তালিকা আজও চূড়ান্ত করা যায়নি। শহীদদের পরিবার কি ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছে তা আমাদের অজানা। আহতরা এই সরকারের কাছ থেকে সঠিক চিকিৎসাও পায়নি। এইসব ঘটনার মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে অভূতপূর্ব অর্জনটি এসেছিল তা বিনষ্ট হয়েছে।

বর্তমানে আমরা ফ্যাসিবাদী চরিত্র দেখতে পাচ্ছি। চাঁদাবাজি, খুন এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এখনও বন্ধ হয়নি। ২৪'র গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনোভাবেও কাম্য নয়।

এদেশের সকল মানুষের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই একটা নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই কিন্তু সেটা থেকে আমরা সরে যাচ্ছি। ৭১ কে ২৪ এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২৪ এর চেতনার আর ৭১ মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে ৭১ হয়েছিল বলেই দেশ স্বাধীন হয়েছে, আর ২৪ সেই স্বাধীন বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। ৭১ কে নিজ জায়গায় রেখে ২৪ এর সাথে সমন্বয় করে এদেশের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমঅধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা