উলিপুর
চন্দন কুমার সরকার, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৪৭ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫৫ পিএম
কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় ৩ মাস ধরে মাদ্রাসা মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় আসছে না কোনো শিক্ষার্থী। পচা পানির দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ। এই চিত্র থেতরাই দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার সুপার ওয়াহেদ আলী থেতরাই ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রি হওয়ায় মাদ্রাসার প্রতি তার উদাসীনতা রয়েছে। এ কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া দীর্ঘ দিনের এ সমস্যা সমাধানে তার তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
থেতরাই দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোরছালিন বলেন, হাঁটুসমান পচা পানি ডিঙিয়ে ক্লাসে যেতে হয়। পচা পানির কারণে চুলকানি হয়। ক্লাসে থাকা যায় না মশার উপদ্রবে। ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাছুমা বেগম বলেন, এমন পচা দুর্গন্ধ পানিতে ভেজা পাজামা পরে ক্লাস করতে হয়। এটা মেয়েদের জন্য কষ্টকর। ক্লাসে গন্ধে থাকা যায় না। তাই মাদ্রাসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন মা-বাবা।
শিক্ষার্থী-অভিভাবক জোবেদ আলী বলেন, পচা পানির কারণে ছেলেমেয়েদের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। ওষুধ দিয়ে ভালো হচ্ছে না। এ অবস্থায় কীভাবে মাদ্রাসায় পাঠাই! স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, সুপার স্থানীয়দের চাকরি না দিয়ে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নিলুফা আক্তারকে আয়া পদে চাকরি দেওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের জেরে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দিয়েছেন। নুর হোসেন বলেন, আগে মাঠের পানি মাদ্রাসার পশ্চিম দিক দিয়ে যেত। কিন্তু মাদ্রাসার বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়ার কারণে পানি যেতে পারে না। পরে কমিটির সদস্য ও সুপার আমার পুকুর দিয়ে পানি বের করার জন্য বললে আমি পানি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিই। কিন্তু পচা পানি আসায় আমার পুকুরের মাছ মরে যায়। এ কারণে আমি পানি যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। ইউএনও আমাকে ডেকে ছিল, তাকেও আমি বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি।
মাদ্রাসার সুপার ওয়াহেদ আলী বলেন, বিষয়টি মাদ্রাসার সভাপতি ও উপজেলা ইউএনওকে জানিয়েছি। তিনি উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করেছেন। পরে নুর হোসেনকে (স্থানীয় বাসিন্দা) ডেকে তার পুকুর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য বলেন। কিন্ত নুর হোসেন রাজি হয়নি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে থেতরাই দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও উপজেলা ইউএনও নয়ন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দুপক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওই পক্ষ (নুর হোসেন) রাজি হয়নি। তবে সুপারকে বলেছি, দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেব। তিনি (সুপার) স্থানীয়ভাবে মাঠ ভরাট করার ব্যবস্থা করবেন।