বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৫ ২২:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৫ ২২:৫১ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে ‘জুলাই বিপ্লব চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি’ নামের একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ওই কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দপ্তর থেকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয় এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আটক কর্মকর্তারা হলেনÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সেকশন অফিসার পঙ্কজ কুমার, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং একই দপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল হক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ‘জুলাই বিপ্লব চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কার্যালয় থেকে আটক করে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান তার দপ্তরে আসেন এবং পুলিশ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। যেহেতু আটককৃতদের বিরুদ্ধে নগরের বোয়ালিয়া থানায় মামলা রয়েছে, আলোচনা শেষে তাদেরকে মতিহার থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা রেজিস্ট্রারকে স্মারকলিপি দিয়ে ৪০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম, যারা ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা নিজেরাই তিনজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছি। প্রশাসন ও পুলিশ যদি বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
এ বিষয়ে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মালেক বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা রয়েছে। আমরা বোয়ালিয়া থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছি। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, কেউ যদি মামলার আসামি হন, তবে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তবে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে বাইরের কেউ এসে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আটক করবে, এই সুযোগ দেওয়া হবে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ও পুলিশের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।