শামীম মিয়া, নরসিংদী
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৫ ০৯:৫৯ এএম
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতি বছরের মতো এবারও ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩২০ জন শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এসএসসির ফলাফল ঘোষণার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন।
ফলাফল ঘোষণার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা-শিল্পপতি আবদুল কাদির মোল্লাসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এর আগেও একাধিকবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফল অর্জন করে এই প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় প্রতি বছরই বোর্ডে দেশসেরার স্থান দখল করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩১৭ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ৩ জনসহ মোট ৩২০ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ৩২০ শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পাস করা শিক্ষার্থী পার্থ প্রতীম ধ্রুব বলেন, বাবা-মা এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দিকনির্দেশনার কারণে এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি শিক্ষকরা হোম ভিজিট ও বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে সব পরীক্ষর্থীকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছেন। যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে দুর্বল তাদেরকে আলাদা নজরদারিসহ গাইড টিচারের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও খেয়াল রেখেছেন। আমাদের ছোট ভাইবোন যারা আছে তাদের প্রতি আমার চাওয়া থাকবে আমরা যেমন স্কুলের সুনাম ও পূর্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পেরেছি তারাও যেন এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে।
পাস করা শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাখন দাস বলেন, নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে আমার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে। তার এই সাফল্যের জন্য আমরা যতটা না পরিশ্রম করেছি তার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছেন স্কুলের শিক্ষকরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমই আমাদের সন্তানদের এই সফলতা এনে দিয়েছে। আমি বাবা হিসেবে স্কুলের সব শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞ।
পাস করা শিক্ষার্থী নুসরাত বলেন, আমি আমার শিক্ষক এবং বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাদের পেছনে তাদের কঠোর পরিশ্রমই আজকে আমাদের এই সফলতা। তাদের পরিশ্রমের মান রাখতে পেরেছি। এর জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলাই এই সাফল্যের মূলমন্ত্র। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত চেষ্টায় এই দেশসেরা ফলাফল অর্জন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, শতভাগ পাসসহ দেশসেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে বিদ্যালয়টি। সারা দেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এ প্রতিষ্ঠানটি দেশসেরা। মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার স্ত্রী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমরা এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।