মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ ২১:৩৭ পিএম
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫ ২৩:০৪ পিএম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর বিয়ের ৩১ বছর পর একসঙ্গে জিপিএ ৪.১১ পেয়ে এসএসসি পাস করেছেন সাংবাদিক দম্পতি কাইসার হামিদ ও রোকেয়া আক্তার। এবার দাখিল (এসএসসি সমমান) পরীক্ষায় পাশ করে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তারা।
কাইসার হামিদের বাড়ি কুলিয়ারচরের গোবরিয়া গ্রামে। রোকেয়া আক্তার কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের মেয়ে। ১৯৯৪ সালের ১৬ মার্চ তারা বিয়ে করেন। তাদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে নাসরিন সুলতানা স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। দ্বিতীয় মেয়ে জেসমিন সুলতানা স্নাতক শেষ বর্ষে, তৃতীয় সন্তান মাইমুনা নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত। ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন নাইনে ও আবদুল্লাহ ফাহিম সেভেনে পড়ে।
কাইসার হামিদ দৈনিক নয়াদিগন্ত এবং রোকেয়া আক্তার দৈনিক বুলেটিনের কুলিয়ারচর প্রতিনিধি। এ দম্পতির শিক্ষাজীবন নতুনভাবে শুরু হয় নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে। সেখান থেকেই তারা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর টেকনিকেল অ্যান্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন।
দুজনের বাবা পেশায় শিক্ষক ছিলেন। পরিবারের অন্যরাও শিক্ষিত। এসএসসি পাস না করায় তাদের মনে কষ্ট ছিল। অদম্য ইচ্ছা আর মানসিক শক্তির জোরে তারা সেই কষ্ট দূর করেছেন।
মেয়ে জেসমিন বলেন, আমাদের মা-বাবার এসএসসি পাস করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এটা আমাদের কাছে আনন্দে ব্যাপার।
রোকেয়া আক্তার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে। এরপর সন্তান। তাই আর পড়াশোনায় যাওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই কষ্ট বুকে লালন করেছি। অবশেষে বুঝলাম, সাহস করে পরীক্ষা না দিলে শান্তি মিলবে না। এবার সেটা করে দেখালাম।
কাইসার হামিদ বলেন, সাংবাদিকতায় আমার বয়স ৩০ বছরের বেশি। সমাজ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। কিন্তু একটাই কষ্ট ছিল এসএসসি পাস না করা। বাইরে গেলে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করতেন। এমনকি বলতেন, ‘এসএসসি পাস না করে সাংবাদিকতা করেন কীভাবে?’ এসব কথায় কষ্ট পেতাম। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, পরীক্ষা দেব।