বগুড়া আজিজুল হক কলেজ
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৫ ২০:১১ পিএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫ ২০:১৯ পিএম
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির মতবিনিময় সভা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বুধবার (২ জুলাই) কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি অফিসিয়াল নোটিস জারি করে কলেজের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই নোটিসটি কলেজের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নোটিসে বলা হয়, ‘বুধবার সকাল ১১টায় কলেজের মুক্তমঞ্চে ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।’ নোটিস প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা এটিকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে দেখেন। গত মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকাল পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানান।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, নোটিসটি ভুলবশত প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যক্ষ মো. শওকত আলম মীর বলেন, অফিস সহকারী তার অনুমতি ছাড়া নোটিসটি তৈরি ও প্রচার করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে নোটিসটি ওয়েবসাইট থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
ঘটনার তদন্তে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক টিপু সুলতান ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলজার হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৫ জুন ৫৪ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে রজিবুল ইসলাম শাকিল আহ্বায়ক, আতিকুল ইসলাম বিপ্লব জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক এবং রাফিউল আল আমিন সদস্য সচিব মনোনীত হয়েছেন। নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, আমরা অধ্যক্ষসহ সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আমাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তবে আমরা তাকে কলেজের প্যাডে আমন্ত্রণ জানাতে বলিনি। কেন তিনি তা করলেন, আমরা জানি না।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কলেজ শাখার সদস্য সচিব নিয়তি সরকার বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে দায়িত্ব-জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
ছাত্র ইউনিয়ন কলেজ শাখার আহ্বায়ক জয় ভৌমিক বলেন, অধ্যক্ষের উচিত ছিল নিরপেক্ষ থাকা। কিন্তু কলেজের প্যাডে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি পক্ষপাতিত্ব করেছেন বলে মনে করছে সবাই।