অরুপ রতন, বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৫ ১০:৩৮ এএম
অনুমোদন মিললে বগুড়ার ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (ভিটিটিআই) হতে পারে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববিপ্রবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) এ-সংক্রান্ত একটি আবেদনপত্র ইতোমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ববিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক কুদরত-ই-জাহান।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করতে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস জরুরি। ইউজিসিতে আবেদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে বগুড়ায় একটি অফিস ও গেস্টহাউস এবং ঢাকায় একটি গেস্টহাউসের চাহিদাও উল্লেখ করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে কালীতলা শিববাট্টি এলাকার ডেল্টা লাইফ ভবনসহ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। সোমবার শহরের ভিটিটিআই ক্যাম্পাসও পরিদর্শন করা হয়, যা বেশ উপযুক্ত মনে হয়েছে। এখন ইউজিসির একটি পরিদর্শন দল এসে সবকিছু যাচাই করবে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কার্যক্রম শুরু হবে।
ববিপ্রবির উপাচার্য বলেন, ‘আমরা শিগগিরই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে চাই। ধাপে ধাপে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উৎপাদনমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হবে।’
ভিটিটিআইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও চিফ ইনস্ট্রাক্টর আল-আমীন বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। এই ভবনে আগে বিভিন্ন বেসরকারি পলিটেকনিকের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের সময়ও এটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদে ববিপ্রবি আইন পাস হয়। ২০২৩ সালে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইনটি কার্যকরে আসে। সরকার দুই দফা প্রজ্ঞাপন জারি করলেও এত দিন বিষয়টি কেবল চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আইন পাসের সময় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশের জামালপুর মৌজায় স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে নুরইল বিল এলাকায় নতুন প্রস্তাব দেয় জেলা প্রশাসন, যা কয়েকজন মন্ত্রী পরিদর্শনও করেন। তবে এরপর তেমন অগ্রগতি হয়নি। গত ৩ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক কুদরত-ই-জাহানকে ববিপ্রবির প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে গতি আসে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, অস্থায়ী কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিটিটিআইয়ের একটি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস কোথায় হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তারেক রহমান দেশে ফিরলে বগুড়াবাসীর উপযোগী জায়গা নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বলেন, ববিপ্রবির কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অস্থায়ী ক্যাম্পাসের অনুমোদন এলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।