বাকৃবিতে র্যাগিং
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তাপসী রাবেয়া হলে র্যাগিংয়ের অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ অনুযায়ী, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনোভা হক আইরিনকে গত ১৯ মে রাতে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে তিনজন শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং আরও দুজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলী।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তির আদেশ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অর্ডিন্যান্স ফর স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন’-এর ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কৃষি অনুষদের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারিয়া সুলতানা মীমকে ১২ মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জোবায়দা জান্নাত সোহা ও আশিকা রুশদাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া একই অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষ ও প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের একসঙ্গে বসিয়ে আলোচনা করেনি। তাদের দাবি, ঘটনার রাতে তারা গেস্ট রুমের পাশে একত্রে বসেছিলেন, তবে সেখানে শারীরিক নির্যাতন বা ফোন কেড়ে নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং বিষয়টি সিসিটিভিতে আছে।
তারা আরও বলেন, প্রভোস্ট ও হাউস টিউটররা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন এবং তাদের বক্তব্য সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
একজন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জানান, গত ১৯ মে রাত ২টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নামে কিছু অভিযোগ শুনে তারা ছাদে বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে ছাদে না গিয়ে গেস্ট রুমের পাশে বসেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা হয়। ওই মেয়ে সেদিন দোষ স্বীকারও করেছে এবং পরের দিন বাসায় চলে যায়। এখানও আসেনি বলে জানান তারা। ভুক্তভোগী ছাত্রী তখন অসুস্থবোধ করলেও তারা তাকে কোনোভাবে হুমকি দেয়নি বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে হল প্রশাসনের দাবি, তদন্তে পাওয়া গেছে, গত ১৯ মে রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পাঁচ শিক্ষার্থী মিলে ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে। অসুস্থতা সত্ত্বেও তাকে অবজ্ঞা করে বলা হয়, ‘মারা যাওয়ার আগে কিছু লক্ষণ তো দেখাও।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, র্যাগিংয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঘটনার পরদিন সকালেই পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং বাসা থেকেই অভিযোগ পাঠায়। পরে হল প্রশাসন তাকে ডেকে এনে সরাসরি বক্তব্য নেয় এবং বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ঘটনার বিষয়ে তাপসী রাবেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলী বলেন, অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ‘অর্ডিন্যান্স ফর স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন’ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।