রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৫ ১৯:২৯ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৫ ১৯:৪০ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলসহ ১২টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ইফতিখারুল আলম মাসউদ।
এদিকে নতুন নামকরণের সিদ্ধান্তের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
রেজিস্ট্রার ইফতিখারুল আলম মাসউদ জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি স্থাপনার মধ্যে কিছু স্থাপনার নাম পরিবর্তন ও নতুন নামকরণ করা হয়েছে। নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হল এবং শহীদ কামারুজ্জামান হলের নামও পরিবর্তন করা হবে। তবে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এখনই তা সম্ভব হচ্ছে না।
সিন্ডিকেট সভায় যেসব স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘জুলাই-৩৬ হল’, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের পরিবর্তে ‘প্রশাসন ভবণ-১’, মনসুর আলী প্রশাসন ভবনের পরিবর্তে ‘প্রশাসন ভবন-২’, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের পরিবর্তে ‘সিনেট ভবন’ নামকরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শেখ কামাল স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম’, ড. কুদরত-ই-খুদা একাডেমিক ভবনের পরিবর্তে ‘জাবির ইবনে হাইয়ান ভবন’, ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া একাডেমিক ভবনের পরিবর্তে ‘জামাল নজরুল ভবন’, কৃষি অনুষদ ভবনের পরিবর্তে ‘কৃষি ভবন’, শেখ রাসেল মডেল স্কুলের পরিবর্তে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মডেল স্কুল’, কাজলা গেটের পরিবর্তে ‘শহীদ সাকিব আঞ্জুম গেট’ এবং বিনোদপুর গেটের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান গেট’ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে বিকল্প নাম দেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের নাম সরিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার আহ্বান।
ওই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। এ ছাড়া শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দেন তারা।
নতুন নামকরণের সিদ্ধান্ত জানাজানির পর ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ ফেসবুক গ্রুপসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে সাফায়েত মোস্তাকিম অনিক নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘কুদরত-ই-খুদা এই দেশের একজন পথিকৃৎ বিজ্ঞানী ছিলেন। ইবনে হাইয়ান হিস্টোরিক্যাল ফিগার কিন্তু এইক্ষেত্রে নাম পরিবর্তনটা একদমই বেখাপ্পা লাগছে। ড. ওয়াজেদও সর্বজন সম্মানিত ছিলেন। আর গেটগুলোর নাম মানুষ ওই বিনোদপুর, কাজলা গেটই বলবে, অযথা কন্ট্রোভার্সি ক্রিয়েট করা।’
মো. ইয়াকুব সরকার নামের একজন লিখেছেন, ‘সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ড. এম মনসুর আলী এই নামগুলো কাগজে-কলমেই মুছতে পারবেন, ইতিহাসের পাতা থেকে নয়!’
নাজমুল হোসাইন নামের একজন লিখেছেন, ‘কয়েকটা নামের পরিবর্তন ছাড়া বাকিগুলো স্পষ্টতই মুক্তিযুদ্ধ বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। বোঝাই যাচ্ছে এসব নাম কাদের প্রস্তাবিত।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আইন লঙ্ঘন করে সিনেটকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থি সিন্ডিকেট সদস্যদের অপসারণের দাবি জানিয়ে ফলাফল আসেনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি সালেহ্ হাসান নকীব স্যার চালাক ছাগলের পিঠে চড়ে বসছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এসব পুনঃনামকরণ! স্যার আরও কিছু নাম দিলে ষোলোকলা পূর্ণ হয়ে যেত!’