বগুড়া আজিজুল হক কলেজ
অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৫ ১৭:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৫ ১৭:৪১ পিএম
সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকসেবন, ছিনতাই এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্রমাগত চুরি, মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে কলেজের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
তারা জানান, ক্যাম্পাসজুড়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। বিশেষ করে পুরাতন হলের সামনের সড়ক ও ভেতরের অংশ, দশতলা ভবনের পুকুর পাড়, বাণিজ্য ভবনের সামনের মাঠ, শহীদ মিনার চত্বর, স্কাউট কার্যালয়ের পেছনের ঝোপঝাড়, বিজ্ঞান ভবনের পাশের বাগান, অডিটোরিয়ামের পেছন ও জহুরুল নগরের গেট সংলগ্ন এলাকা মাদকসেবীদের দখলে চলে গেছে। এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বহিরাগত ও কিছু চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী গাঁজা সেবন, মদ্যপান এবং অশ্লীল আচরণে লিপ্ত থাকে।
ছিনতাইকারীদের দাপটও বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। শিক্ষার্থীরা জানান, বিশেষ করে পুরাতন হলের সামনের সড়ক, দশতলা ভবনের দিকে যাওয়া রাস্তা এবং কলেজ সংলগ্ন মসজিদের আশপাশে সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘবদ্ধ একটি চক্র অস্ত্রের মুখে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং ব্যাগ ছিনিয়ে নিচ্ছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তুলেছে। গত বুধবার দুপুরে রোকেয়া ছাত্রী হলে বহিরাগত এক নারী ‘ছাত্রী’ সেজে ঢুকে চারটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও একটি কাপড়ের ব্যাগ চুরি করে নিয়ে যায়। এতে হলে অবস্থানরত ছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
একই দিন রাতে সময় টিভির বগুড়া প্রতিনিধি ও কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল আউয়াল ছাত্র হলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাকালে পুকুর পাড়ে বসে থাকা দুই মদ্যপ ব্যক্তি তাকে গালাগাল করে ও চাকু বের করে ভয় দেখায়।
গত ৫ মে রাত ৮টায় অধ্যক্ষের বাসভবনের সামনে তিন ছিনতাইকারী মিলে এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে এটিএম কার্ড থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে নেয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তারা প্রায়ই সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ২৮ এপ্রিল কলেজ অধ্যক্ষ মো. শওকত আলী মীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, ‘সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য শিক্ষার পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে।’
তাদের অভিযোগ, কলেজ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি শাফিউল ইসলাম শাফিন বলেন, ‘প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই আজ ক্যাম্পাস অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বড় কর্মসূচির দিকে যেতে হবে।’
ছাত্রনেতা অনিক আহম্মেদ অর্ক বলেন, প্রতিদিন ক্যাম্পাসে ছিনতাই, ইভটিজিং ও মাদকসেবনের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকছে।
আরেক ছাত্রনেতা আবুদল্লাহ আল নোমান বলেন, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা চলাফেরা করতে ভয় পান। আমরা দ্রুত ক্যাম্পাসে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।
কলেজের সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি ছানোয়ার শিহাব বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে পুরাতন হল ও দশতলা ভবনের আশপাশে শিক্ষার্থীরা এখনও সন্ধ্যার পর নিরাপদভাবে চলাফেরা করতে পারে না।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. শওকত আলী মীর বলেন, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও নিরাপত্তা জোরদারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আসাদুজ্জামান জানান, আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে টহল টিম বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।