বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৫ ২২:৫০ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান নিমনীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর গবেষণা পত্র নিজের নামে প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রিফাত সুলতানা জাহান।
লিখিত অভিযোগে রিফাত সুলতানা জাহান উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান নিম্নীর অধীনে "Subjugation, Marginalization and Double Colonization: A Reading of The Avarodhbasini, The Dark Holds No Terrors and The God of Small Things" শিরোনামে এম.এ থিসিস সম্পন্ন করি। সম্প্রতি আমি জানতে পেরেছি আমার কোনরূপ অনুমতি বা সম্মতি ব্যতীত "International Journal of English Literature and Social Sciences, Vol-9, Issue-6, Nove-Dec 2024" শীর্ষক জার্নালে "Breaking the Silence: A Quest for Self in Shashi Deshpande's The Dark Holds No Terrors" শিরোনামে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে একটি প্রবন্ধ (আর্টিকেল) প্রকাশ করেন যেখানে তিনি আমাকে দ্বিতীয় লেখক হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সহকারী অধ্যাপক নিম্নীর প্রকাশিত নিবন্ধের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ (৫টি অনুচ্ছেদ বা প্যারাগ্রাফ) তিনি আমার এম.এ থিসিসের মূল বইয়ের ৩ নং অধ্যায় থেকে সরাসরি অনুলিপি করেছেন। আমার মূল থিসিস ছাড়াও ৬ জানুয়ারি ২০১৯ সালে তাকে প্রেরণকৃত থিসিসের খসড়া নমুনার ৫ নং অধ্যায়, ২৩ শে আগস্ট ২০১৯ এই প্রেরণকৃত থিসিসের বই আকারের খসড়া নমুনার ৪ নং অধ্যায় এবং আমার থিসিস উপস্থাপন (প্রেজেন্টেশন) থেকেও তিনি অনুলিপি, ভাবানুবাদ ( প্যারাফ্রেজিং) এবং পুনর্ব্যক্ত যুক্তি (রিফ্রেজিং) ব্যবহার করেছেন। এই নিবন্ধনের মূল যুক্তি (প্রবলেম স্টেটমেন্ট) এবং বিশ্লেষণ (ডিসকাশন) আমার এমএ থিসিসের ৩ নং অধ্যায়ের প্রতিফলন করে। এমনকি তার প্রকাশিত নিবন্ধের শিরোনামো ৬ জানুয়ারি ২০১৯ এ তাকে প্রেরণকৃত থিসিসের খসড়া নমুনা ৫ নং অধ্যায়ের শিরোনামের প্রতিফলন করে।
এই ঘটনা জানার পর ১৩ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন রিফাত সুলতানা জাহান।
এই বিষয়ে রিফাত সুলতানা বলেন, 'নিমনী ম্যাডাম নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালীন উনার অধীনে আমি এম. এ থিসিস সম্পন্ন করি ২০১৯ সালে। আর আমার এম. এ থিসিসের তিন নাম্বার অধ্যায় থেকে গত ৩১ই ডিসেম্বর ২০২৪ সালে তিনি একটি আর্টিকেল পাব্লিশ করেন যেখানে তিনি নিজেকে ফার্স্ট অথার হিসেবে রেখেছেন এবং আমাকে সেকেন্ড অথার হিসেবে রেখেছেন। উনি এই আর্টিকেলের পাব্লিকেশান সংক্রান্ত ব্যাপারে আমার কোনো অনুমতিই নেন নি।
গত ১৭ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে অন্য একটি জার্নালের আমাকে পাঠানো একটি স্প্যাম ইমেইলের মাধ্যমে আমি আর্টিকেলটির পাব্লিকেশানের ব্যাপারে জানতে পারি। এরপর উনার সাথে যোগাযোগ করলে উনি বলেন যে, উনি খুবই কম প্যারাগ্রাফ এইখান থেকে নিয়েছেন, এই পাবলিকেশনে আমার কোনো ভুমিকাই নেই এবং আমাকে নানাভাবে ম্যানিপুলেট করতে চান। আবার বারবার এটিও বলেন যে, আমি এই থিসিস দিয়ে কী করব।'
তিনি আরও বলেন, 'এরপর আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ দেই। অভিযোগ দেওয়ার পর নিম্মী ম্যাম আমাকে জানিয়েছেন তিনি আর্টেকেলটি সরানোর জন্য পাবলিকেশন অথরিটিকে মেইল দিয়েছেন এবং সরিয়েছেন। এখন আমার কথা হচ্ছে, আমার থিসিস পেপার যদি উনি খুব কমই ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অভিযোগ দেওয়ার সাথে সাথে কেন সরিয়েছেন? তাছাড়া উনি যে আমার অন্য কাজগুলো ব্যবহার করেছেন এটার নিশ্চয়তা কী? আমি এই পুরো প্রক্রিয়াটির তদন্ত দাবি করছি।'
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান নিম্নীকে বারবার কল দিয়েও পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়েছি, এই ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন ইসরাত জাহান নিমনী। ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পান ইসরাত জাহান নিমনী।