রাবি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৪২ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৩২ পিএম
অনশনে রাবির উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ছবি : প্রবা
পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে অনশনে বসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের ২৮ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়া দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকাল ৩টার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনশন ভাঙতে অনুরোধ করা হয়। তবে ফল বিপর্যয়ের সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ জন নিয়মিত ও তিনজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছেন। এই বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় ৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জনের ফল প্রকাশিত হয়। ছয়জন নিয়মিত ও দুজন অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশিত হয়নি। প্রকাশিত ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভাগের অফিসকক্ষে ও সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিভাগ বন্ধ ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার আশ্বাসে তালা খুলে দেন তারা। দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ফল সংশোধন করে সুষ্ঠু ফলাফল প্রকাশ করার কথা বলে ১০ বারের বেশি সময় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিতে পারেনি। তাই ফল সংশোধনের সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনশনে থাকবেন তারা। এ ছাড়া ফল বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের শাস্তির দাবিও জানান।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘প্রাপ্য ফলাফল দিতে হবে’, ‘হুমকি-ধমকির বিচার চাই’, ‘ছাত্রবান্ধব বিভাগ চাই’, ‘আমরণ অনশন চলছে-চলবে’, ‘ছাত্রদের নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করুন’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’—এমন সব লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
উর্দু বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমাদের সমস্যা সমাধানের কথা বলে ১০-১২ বার সময় নিয়েছে প্রশাসন। প্রতিবার তারা সমাধানের কথা বলেছেন। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ে যোগাযোগ করলেও বারবার সময় চেয়েছেন তারা। সর্বশেষ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু এখনও সমাধান হয়নি। আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই।’
তিনি বলেন, “শিক্ষকরা আমাদের ক্লাসের মধ্যে হুমকি দিতেন এই বলে—‘তোমরা ভালো রেজাল্ট কীভাবে কর তা আমরা দেখে নেব। চার তলা থেকে নিচতলায় কীভাবে নামাতে হয় তা আমরা জানি’। আমাদের ব্যাচ শিক্ষকদের ক্রোধের শিকার হয়েছে।”
বিভাগের একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষার আগে নানাভাবে আমাদের মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা যে পরীক্ষার ফলে প্রভাব পড়বে তা ভাবিনি। আমরা প্রাপ্য ফল পাইনি। আমাদের যতক্ষণ না প্রাপ্য ফল ফিরিয়ে দেবে ততক্ষণ আমরা এ অনশনে থাকব। আমাদের ২৮ জন অনশনে অংশ নিয়েছেন, দুজন ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উর্দু বিভাগের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি ঠিক নয়। আগের সেমিস্টারের তুলনায় তাদের ফল খারাপ হয়েছে। ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মেনেই দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন আর সম্ভব নয়।’