বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৫ ১৬:৪২ পিএম
মঙ্গলবার রাত ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রবা ফটো
মব সন্ত্রাস ও শাহবাগের জুডিশিয়াল কিলিংয়ের বিচার দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাত ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর বিক্ষোভটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের বটতলায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, শাহবাগ নো মোর’, ‘ল তে লাকি, তুই হাসিনা তুই হাসিনা’, ‘আমার ভাই কবরে’, ‘আমার সোনার বাংলায় শাহবাগের ঠাঁই নাই’, ‘শাহবাগ না জাস্টিস, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, শাহবাগের কবর দে’, ' শাহবাগী শাহবাগী, বিচার তোরা পাবি পাবি’, ‘শাহবাগী হামলা করে, ইন্টেরিম কী করে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী বানানোর অন্যতম খলনায়ক এই শাহবাগ প্রতিষ্ঠাকারীরা। এখন তারা তাদের সেই দোসরদের পুনর্বাসন করতে সচেষ্ট। দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা প্রতিবেশী দেশের দালালি করছে৷ এই চক্রটি আবার সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আসার আগে এই মুহূর্তে তারা বাংলাদেশকে বিশৃঙ্খল করতে নানা অজুহাত খুঁজছে৷ অবিলম্বে এই বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা৷ এছাড়া মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে গণহত্যায় বিচার ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের স্লোগান কন্যাখ্যাত লাকী আক্তারের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আঞ্জুম শাহরিয়ার বলেন, বাংলাদেশে শাহবাগ কায়েমের মাধ্যমেই মব জাস্টিসের সূচনা হয়েছিল। আমাদের ভাইদেরকে তাজা রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছিল। এই দেশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পুনরায় সেই মব জাস্টিস করতে চায়, তাহলে ছাত্র-জনতা তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করবে। সন্ত্রাসী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী সকল সন্ত্রাসীদের বিচার করতে হবে। যখন ইন্টেরিম সরকার একটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন আন্দোলন করে দেশে অস্থিরতা তৈরি করে সার্বভৌমত্বকে বিপন্নের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা দেশকে বিদেশি অপশক্তির হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আজকে যে মব কায়েম করা হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে শাহবাগের হাত ধরে এ দেশে স্বৈরাচার জন্মলাভ করে। একইসঙ্গে শাপলার গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়। আজ ২০২৫ সালে এসে সেই পতিত স্বৈরাচারের দোসরেরা নতুন করে শাহবাগ কায়েম করতে চায়। এদেশে আমরা ছাত্র-জনতা নতুন কোনো স্বৈরাচার জন্মাতে দেব না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলি জাকি শাহরিয়ার বলেন, আমরা জানি কীভাবে এই শাহবাগীরা ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। আমরা জানি তারা কীভাবে ফ্যাসিস্টদের ‘বি’ টিম হিসেবে কাজ করেছে। আমরা এটাও দেখেছি দেশে কীভাবে বিচারিক হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। বড় অবাক হই ২৪ পরবর্তী সময়ে এসে কীভাবে এই লাকী আক্তার অবাধ বিচরণ করে বেড়ায়। আমরা শিক্ষার্থীসহ আপামর জনতা এই শাহবাগীদের বিচার চাই। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই যতদিন না এই শাহবাগীদের মূলোৎপাটন হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।