বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৫৬ পিএম
কুবিতে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘তারুণ্য উৎসব-২০২৫’ ।
ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘তারুণ্য উৎসব-২০২৫’ আয়োজিত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি)। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ আয়োজন হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এনডিসি শীষ হায়দার চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘তারুণ্যের উৎসবের মাধ্যমে ড. ইউনূস সরকারের পক্ষে আমরা একটি মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করছি, এ দেশের তরুণরাই সবকিছুর চালিকা শক্তি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে এটা প্রমাণিত। তারুণের উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে করার কারণ হলো, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম স্থান ছিল কুমিল্লা। এছাড়া এই এলাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা এডুকেশন হাব। এ অঞ্চলে একসঙ্গে অনেক ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পরবর্তী ইনোভেশন হাবটি আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করবো।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো হায়দার আলী বলেন, ‘অনুষ্ঠানের ভেন্যু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে করায় আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানাচ্ছি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে। তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার পথ এখন, সেটা তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ। তরুণদের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একটি সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছে। আজকের আইসিটি মানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগৎ। এ জগৎ খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন এ সব বিষয় তরুণদের টার্গেট হওয়া উচিত। যদি মন্ত্রণালয় থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক কিছু প্রজেক্ট হাতে নেয় সেখানেও আমরা সহযোগিতা করবো।’
তিনিও আরও বলেন, ‘আইসিটি মন্ত্রণালয়কে সচিব ঘোষণা দিয়েছেন এখানে (কুমিল্লায়) একটি আইসিটি হাব হবে। এতে আমি খুব খুশি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খুশি। তরুণদের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে আসতে হবে। আর এই হাবটিকে আমরা দেশের প্রথম এআই হাব বানানোর জন্য চেষ্টা করবো। কারণ এ সেক্টরে দেশ ও বিদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘ভাষার মাসে এটা আমাদের সুন্দর আয়োজন। আমি শ্রদ্ধাভাবে স্মরণ করি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি, বিশেষকরে চব্বিশে জুলাই বিপ্লবে যাদের আত্মত্যাগ ছিল তাদেরকে বিশেষভাবে স্মরণ করি। গভীরভাবে স্মরণ করছি আমাদের ছাত্র শহিদ আবদুল কাইয়ুমকে। যিনি চব্বিশের আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরকে গ্লোবাল প্রডাক্ট হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিরা হলেন- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত) জনাব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক এম. এ. এন শাহীন, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পঙ্কজ বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং তারুণ্যের উৎসবের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।
বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর ‘জুলাই বিপ্লব ও তথ্য প্রযুক্ত’ বিষয়ক ডকুমেন্টারি এবং ‘জুলাই বিপ্লবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’ দুইটি পৃথক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। তারুণ্যের উৎসবে অনলাইনভিত্তিক কুইজ এবং একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়।