নাম পুনর্বহালের দাবি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:০৮ পিএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪৩ পিএম
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ পূণর্বহাল করার দাবীতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্র্রধান ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ পুনর্বহাল করা না হলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন মহানগরের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রহমত আলী ও শামসুর রহমান সুমন সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
এতে তারা বলেন, রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল ছিল ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বেগম রোকেয়া সাখওয়াত হোসেনের নামটি ব্যবহার করেন। এর কোনো যৌক্তিকতা সে সময় ছিল না। বরং বেগম রোকেয়া নামে বিশেষায়িত একটি বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে স্থাপন করা যেত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে রংপুরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ রংপুরবাসী এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে মাঠে নামে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৮টি অনুষদ এবং ৪৪টি ডিপার্টমেন্ট থাকার কথা থাকলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন, পরিবহন সংকট তীব্র রয়েছে। যে সরকারের নির্দেশে আবু সাঈদের তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই সরকারের কোনো চিহ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারে না। নাম পুনর্বহালে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর, ভাইস চ্যান্সেলর, শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এসব দাবির সপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতকরা ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাই আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন নাম পুনর্বহাল করা না হলে শাটডাউন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।