রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:২৭ পিএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:০০ পিএম
বুধবার রাত ৯টায় এই কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনলাইনে ভাষণ ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সকল আবাসিক হল থেকে আওয়ামী পরিবার সংশ্লিষ্টদের নামফলক মুছে দিতে শুরু করেছেন।
পূর্ব ঘোষণা অনুসারে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথমেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামফলক ভাঙচুর করেন। এসময় বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪’ নামকরণ করেন তারা। প্রায় কয়েক শত শিক্ষার্থী ভাঙচুর কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এদিকে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, নির্মাধীন শেখ
হাসিনা হল, কামরুজ্জামান হলের নামফলক ভেঙে ফেলেছেন।
এছাড়াও ক্যাম্পাসজুড়ে শেখ মুজিব পরিবারের নামে গ্রাফিতি ও
দেয়াল লিখন মুছে ফেলেছেন রাবির ক্ষুদ্ধ ছাত্রজনতা।
শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘ফাতিমা আল ফাহরিয়া’ ও কামরুজ্জামান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আলি রায়হান হল’ এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হল’ নামকরণ করেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?’ ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’ ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ‘শেখ হাসিনার গদিতে, আগুন জ্বালাও
একসাথে’ ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ ‘একশন টু একশন, ডাইরেক্ট একশন’ ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’ এরকম নানান
স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, রাবিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের কারও নামের চিহ্ন রাখা হবে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশের যা ক্ষতি করেছে তা সবার জানা। এখন তিনি ভারতে বসে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত করছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, ‘খুনি হাসিনা মনে করেছে আমরা সব ভুলে গেছি। হাসিনার হাতে হাজারো ছাত্র সমাজের রক্তের দাগ লেগে আছে। খুনি হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অস্তিত্ব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আর থাকবে না। অতিদ্রুত শেখ হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি দিতে হবে বলে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।’
এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবি শাখার অন্যতম
সমন্বয়ক ফাহিম রেজা বলেন, ‘বুধবার রাতে শেখ হাসিনা লাইভে এসে ছাত্র জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার প্রতিবাদে
আমাদের এ কর্মসূচি। আমার ভাইদের রক্তের দাগ না শুকাতেই খুনি হাসিনার প্রকাশ্যে
আসার সাহস দেখায় কেমনে? আমরা
ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন ও রাবি থেকে তাদের শেকড় মুছে দিতে আমাদের
আজকের এ আন্দোলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বাহিরে বসে দেশকে নিয়ে
ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে দেশে এনে ফাঁসি দেওয়ার জন্য সরকারের
কাছে আহ্বান জানান তিনি।’