প্রতিদিনের বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:০১ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৫৩ পিএম
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে শিক্ষা অনুদান গ্রহণ করছেন শিমা আক্তার। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের মেয়ে শিমা আক্তার। অভাবের সংসার। এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেন তিনি। দারিদ্র্যের তীব্র কষাঘাতে দমে যাননি শিমা। অসুস্থ্ বাবার আয়-রোজগার না থাকায় স্বল্প আয়ের বড় ভাইদের ওপর নির্ভর পুরো পরিবার। বেতন-পরীক্ষা ফিসহ বিভিন্ন খরচ চালানো কঠিন ছিল তার জন্য। স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। ঘরে বসেই ভর্তি গাইড পড়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে।
মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর দারিদ্র্য পরিবারের সন্তান শিমা আক্তারের সফলতা নিয়ে গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘দারিদ্র্যকে হার মানালেন শিমা’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে শিমার মেডিকেল কলেজে ভর্তির দায়িত্ব নেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাজীব কুমার সরকার তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিমার হাতে ভর্তির প্রয়োজনীয় অর্থসহ শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন। এতে মেডিকেলে ভর্তির অনিশ্চয়তা দূর হলো শিমার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের ছয় সন্তানের মধ্যে শিমা পঞ্চম। সে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালীয়া এলাকার আলী আহাম্মদের মেয়ে।
তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪ হাজার ৩১৬তম স্থান অর্জন করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে সুযোগ পান শিমা।
শিমা আক্তার বলেন, ‘মেডিকেলে পড়া আমার স্বপ্ন ছিল। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে আমি ভর্তির জন্য চূড়ান্ত হয়েছি। কিন্তু টাকার অভাবে তা ভেস্তে যেতে বসেছে। এখন জেলা প্রশাসন ও কমলনগর উপজেলা প্রশাসন আমাকে ভর্তির জন্য আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে। আমি যেভাবে সবার সহযোগীতা পেয়েছি। একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে আমিও অন্যদের সহযোগিতায় কাজ করবো।’
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী কঠোর পড়াশুনা করে শিমা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি নিয়ে তার শঙ্কা ছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে আসা মাত্রই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। প্রাথমিকভাবে তার ভর্তিসহ শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক খরচের জন্য আমরা তাকে সহায়তা করেছি। ভবিষ্যতেও যে কোন প্রয়োজন জেলা প্রশাসন ও কমলনগর উপজেলা প্রশাসন তার পাশে থাকবে।’
আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সম্রাট খীসা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদ আলম রানা ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস।