শিক্ষাঙ্গন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ০০:১১ এএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ০১:০৫ এএম
এখন থেকে ঢাকার সাত কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকছে না। প্রবা ফটো
বছরের পর বছর ধরে যে সম্পর্কের মধ্যে বাসা বেঁধেছিল প্রবল অনাস্থা আর অবিশ্বাস, অবশেষে তার অবসান হলো। সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আট বছর পর আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের। গতকাল সোমবার দুপুরে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ঢাকার বড় সাতটি কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকছে না। এই কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্মানজনক পৃথককরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৪-২৫ সেশন থেকে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি করা হবে না। বৈঠক শেষে লিখিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ এসব কথা জানান।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজকে ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। সেই হিসাবে প্রায় আট বছর ঢাবির অধীনে ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম চলে সাত কলেজে। যে সংকটগুলো নিরসনে কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং দিন দিন পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ঘনীভূত হয়েছে নানা সংকট। শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের সিদ্ধান্ত হলেও তা হয়েছে সংঘর্ষের মাধ্যমে। গত রবিবার রাতে ঢাবি ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠকে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৈঠক শেষে ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়সংলগ্ন অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন দুই সহউপাচার্য মামুন আহমেদ ও সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সম্মানজনক পৃথককরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২. সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এক বছর এগিয়ে এনে এ বছর থেকেই অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি না নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৩. শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সভায় জোর সুপারিশ করা হয়।
8. ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী আসনসংখ্যা, ভর্তি ফি নির্ধারণসহ যাবতীয় বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৫. যেসব শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের অধীন রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বশীল থাকবে, যাতে তাদের শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সংঘর্ষের পূর্বাপর
পুলিশ জানিয়েছে, গত রবিবার ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ শুরু হয় রাত ১২টার পর। রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। দুই পক্ষকে সামাল দিতে আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হলেও শেষপর্যন্ত সংঘর্ষ ঠেকানো যায়নি। প্রো-ভিসির পদত্যাগ, ঢাবির অধিভুক্ত থেকে মুক্ত হওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে রাতে ঢাবি ভিসির বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে জড়ো হতে থাকেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা ভিসির বাসভবন ঘেরাও করতে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থানকারী ঢাবি শিক্ষার্থীরা তাদের ধাওয়া দেন। এরপরই শুরু হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। দুই পক্ষকে থামাতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। রাত সাড়ে ৩টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আশপাশের এলাকায়ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব, ঢাকা কলেজসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায় পুলিশকে।
জানা গেছে, নানা দাবিতে অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামার ঘটনা কয়েক বছর ধরেই চলছে। পাঁচ দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব ও টেকিনিক্যাল মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কলেজশিক্ষার্থীরা। দাবি-দাওয়া জানাতে তারা ঢাবি উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদের কাছে গেলে তিনি তাদের অপমান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে উপউপাচার্যের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে গত রবিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ের অবরোধ থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে রওনা হন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি জটিল হতে হতে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে মোড় নেয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল নতুন করে রাস্তায় না নামলেও ঢাকা কলেজের সামনে জড়ো হতে থাকেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সাত কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সম্পর্কের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। কবে বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সেই ঘোষণা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘাতের দায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদকে পদত্যাগ করতে হবে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাসহ তাদের শিক্ষার্থীদের ওপর নিউমার্কেট থানা পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় এসি-ওসিসহ জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কর্তৃক ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজসহ সাত কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অশালীন অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের জন্য প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, ইউজিসির সদস্য ও ঢাবির উপাচার্যের সমন্বয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি টিমের সঙ্গে তাৎক্ষণিক উচ্চপর্যায়ের মিটিংয়ের মাধ্যমে এ ঘটনার সমাধান করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের রাস্তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলেজশিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা না হলে এবং প্রত্যাহার করা না হলে নিউমার্কেট থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনার থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও সময় বেঁধে দিয়েছেন তারা।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মইনুল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। এর দায়ভার পুলিশকে নিতে হবে। নিউমার্কেট থানার ওসি ও এসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। সেই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ড. মামুন আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, সাত কলেজের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার বিষয়টি নিয়ে সরকারও ভাবছে। মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এ নিয়ে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
ইউজিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন ‘মডেল’ নিয়ে কাজ করছেন। এখনও ‘মডেল’ চূড়ান্ত হয়নি। সাত কলেজ এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায়ও থাকবে না। হঠাৎ করে তাদের অধিভুক্তি থেকে মুক্ত করতে হলে তারা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় থাকবে সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি ও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজকে অধিভুক্ত করতে হলে কিছুটা সময় লাগবে। সেই সময় শিক্ষার্থীদের দিতে হবে। হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত ভালো ফল বয়ে আনবে না।
আলাদা কাঠামোতে চলবে সাত কলেজ : ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সভা শেষে গতকাল সোমবার বিকালে ঢাকা কলেজে এক বিফ্রিংয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস বলেন, ‘শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে না ফিরে আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ঠিক করার পরই অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজে নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।’
বিফ্রিংয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কলেজগুলোর জন্য আলাদা নতুন যে কাঠামোর কথা সরকার চিন্তা করছে, সেখানে ভর্তির বিষয়টি নির্ধারিত হবে। তাদের যদি কোনো সহায়তা লাগে সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিতে সম্মতি দিয়েছে।’
ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইলিয়াস বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না। নতুন ওই কাঠামো সাত কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে কাজ শুরু করবে। তবে সাত কলেজে চলমান পরীক্ষাগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চালানোর কথা বলেছেন কলেজগুলোর অধ্যক্ষরা। আমাদের কয়েকটা পরীক্ষা চলমান। আমরা সাত কলেজের পরীক্ষাগুলো শেষ করতে চাই। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ও সম্মত। চলমান পরীক্ষাগুলো আমরা চালাতে চাই, তাতে যদি শিক্ষার্থীরা সম্মত থাকে। দুয়েকটি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে, অবস্থা দেখে ওই তারিখগুলো নতুন করে দেওয়ার কথা আমরা বলেছি।’
ঢাবি উপউপাচার্যের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সভায় শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কী নেবে, সেটা দেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই, এটা উনারা নেবেন।’
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক মধুর হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সম্পর্কের মধ্যে জ্ঞান আদান-প্রদানের বিষয় থাকে। ফলে এটি খুব জরুরি। আমরা আমাদের ছাত্রদের সঙ্গে একধরনের ব্যবহার করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ছেলেদের সঙ্গে নিজেদের মতো ব্যবহার করে। তবে ছাত্রদের সঙ্গে যে মৌলিক সম্পর্ক সেটা সব ছাত্রের সঙ্গে থাকা দরকার। কাল (রবিবার) যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’