ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৫২ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:০২ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শনিবার কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল শনিবার।
দেশব্যাপী ৮টি বিভাগীয় শহরে একযোগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ আবু সাঈদ বিষয়ক প্রশ্ন স্থান পেয়েছে। এছাড়া ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট রেজিম পতনের বর্ণনা নিয়ে লিখিত অংশে একটি অনুচ্ছেদ অনুবাদ এসেছে। আরও ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্যোগে চালু হওয়া বিশ্বব্যাপী ‘তিন শূন্য’ (থ্রি জিরো) আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন।
ভর্তি পরীক্ষার বহুনির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) বাংলা অংশে এসেছে, ‘বৈষম্যবিরোধী শব্দটি কোন সমাসে নিষ্পন্ন’।
সাধারণ জ্ঞান অংশে এসেছে, ‘ঢাকা শহরের প্রথম ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন কে?’ উত্তর হিসেবে চারটি নাম ছিল- জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া ও বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ।
আরেকটি প্রশ্ন ছিল ‘তিন শূন্য তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?’ উত্তর হিসেবে চারটি বিকল্প রাখা হয়- শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শূন্য ক্ষুধা।
আরেকটি প্রশ্নে এসেছে, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের নাম কী?’ উত্তর হিসেবে চারটি নাম ছিল- উন্নত মম শির, অকুতোভয়, বিদ্রোহী, দুরন্ত।
উত্তর- আবু সাঈদ স্মরণে নির্মিত শিল্পকর্মটি হলো ‘উন্নত মম শির’; আর চিত্রকলা অঙ্কন করেছেন শিল্পী শহীদ কবির।
সাধারণ জ্ঞান অংশে আরেকটি প্রশ্ন এসেছে,‘বাংলাদেশের সংবিধানের কোন সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে?’
২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। সম্প্রতি এটি পুনর্বহাল করেছে হাইকোর্ট।
আরও ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে কতজন নারী রয়েছেন, ২৫তম প্রধান বিচারপতি কে? মুক্তিযুদ্ধে নৌবাহিনী কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছে? কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মুসলিম।
লিখিত অংশে একটি ইংরেজি অনুচ্ছেদ বাংলায় অনুবাদ করতে বলা হয়। অনুচ্ছেদটি ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বর্ণনা নিয়ে।
এতে ইংরেজিতে উল্লেখ করা হয়, ‘শেষ বিকেলে, ঢাকার সড়কে মানুষের ঢল নামে; তারা ছিলেন উৎফুল্ল। কেউ পরিবারের সঙ্গে; কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। তারা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং স্বৈরশাসককে দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন। এটি ছিল ছাত্রদের বিজয়, জনগণের বিজয়! দীর্ঘ সময় পর ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে জনগণ উল্লসিত।’
কোটায় যৌক্তিক সংস্কার আনা হয়েছে : উপাচার্য
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোনো অভিযোগ পাননি। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটার যৌক্তিক সংস্কার আনা হয়েছে। শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের কোটা রেখে নাতি-নাতনিদের কোটা বাদ দেওয়া হয়েছে।
আটটি বিভাগীয় শহরের অনুষ্ঠিত এই ভর্তি পরীক্ষায় মোট এক লাখ ২৫ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী আবেদন করেন। আর প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪৩ জন শিক্ষার্থী।