ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:২৭ পিএম
মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান শশী ও সীমা আক্তার শিমু। কোলাজ, প্রবা
চলতি শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাতজন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. শহীদুল্লাহ।
মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও আর্থিক সংকটের কারণে ভর্তির অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এদের মধ্যে দুজনের। শিক্ষার্থী দুজনকে সহযোগিতা করার কথা ভাবছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে এবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী, কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান ও তাসমিয়া জান্নাত নোভা, পাবনা নীলফামারী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান শশী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী সীমা আক্তার শিমু, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার ও বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থী সেতুয়া হোসেন রিয়া।
মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. বাদশা মিয়ার মেয়ে সীমা আক্তার শিমু ও একই উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের গকুলনগর গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমানের মেয়ে নুসরাত জাহান শশী। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় শিমু পেয়েছেন ৭৬ দশমিক ২৫ ও নুসরাত জাহান শশী পেয়েছেন ৭৫ দশমিক ৭৫ নম্বর। মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেওয়ার দুশ্চিন্তা যেন কাটছেই না তাদের পরিবারের।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী শিমুর বাবা বাদশা মিয়া পেশায় একজন ভ্যানচালক। তার একক আয়েই চলে তাদের সংসার। ইতোমধ্যে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হওয়া শিমু শিক্ষকদের সহযোগিতায় লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা নরসিংদী থেকে ভৈরবের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। প্রতিদিন এই দূরত্ব পাড়ি দিয়ে কলেজে আসতেন শিমু। তার সাফল্যে আনন্দিত শিমু ও তার পরিবার। কিন্তু লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক অবস্থা নেই শিমুর পরিবারের।
এ বিষয়ে কথা হলে শিক্ষার্থী শিমু বলেন, ‘২০ হাজার টাকার প্রয়োজন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে। তারপর আবার লেখাপড়ার খরচ। এ কারণে আমি চিন্তিত। মানুষের সেবা করতেই আমি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চাই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শশীর বাবা জিল্লুর রহমান একটি হাসপাতালে মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত আছেন। তার আরও দুই বোন রয়েছে। তিন মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাবা জিল্লুর রহমানের। কলেজ হোস্টেল থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন পাবনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী শশী।
এ বিষয়ে শশী বলেন, ‘আর্থিক অনটনের কারণে ভর্তির অনিশ্চয়তায় পড়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনেকগুলো টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হবে। কলেজে থাকা অবস্থায় শিক্ষকরা আমাকে নানান ভাবে অনেক সহযোগিতা করেছেন। মেডিকেলে সুযোগ পেলেও ভর্তি ও ভবিষ্যতে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার টাকা জোগাড় নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।’
এ বিষয়ে কথা হয় রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস ধ্রুবর সাথে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজ থেকে এবার সাতজন শিক্ষার্থী মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। শিক্ষার্থী শিমুর বাবা ভ্যানচালক। বেতন ছাড়া সে কলেজে পড়েছে। তার বইপত্র আমরা ফ্রি দিয়েছি। শশীর পরিবারেরও আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তার বাবাও অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াচ্ছেন। তাকেও আমরা একইভাবে সহযোগিতা করেছি।’
রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা গর্বিত। আমাদের কলেজের মেয়েরা সব দিক দিয়ে এগিয়ে আছে। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজের সম্মানে ভূষিত রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ। শিমু ও শশী আমাদের কলেজের একটি অংশ। আমাদের কলেজে পড়ালেখা করার সময় তাদেরকে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পড়া অবস্থায় কলেজের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’