শাহ্ পরান
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:৪৬ এএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৩১ পিএম
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
দূষিত পানির কারণে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবাসিক হলের শিক্ষার্থী এবং আবাসিক এলাকার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবন। এই পানি পান করে অনেকেই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। একাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের পানি পান করে বহু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ কারণে অনেকে হল ছেড়ে বাসায় থাকছেন। যারা হলে থাকছেন, তারা হলের পানি পান করা থেকে বিরত থাকছেন। এ কারণে তাদের একাডেমিক কার্যক্রমও চলছে না। চলতি মাসেই পরীক্ষার তারিখ এক দফা পেছানো হয়েছে। নতুন করে ২৯ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরুর রুটিন দেওয়া হলেও সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই সংকটের সমাধান দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুয়েটের একটি আবাসিক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসের কোনো একটা পাইপের দূষণের কারণে এমনটি ঘটছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তারা পানির সমস্যায় ভুগছেন। এতে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গত রবিবার বুয়েট ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ। হলে থাকা শিক্ষার্থীরা ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি। পরীক্ষার আগে পিএল (প্রিপারেটরি লিভ) বা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ছুটি চলমান থাকায় অনেক শিক্ষার্থী আগেই বাড়িতে চলে গেছেন। তবে আবাসিক হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের শিক্ষার্থীরা ৭ জানুয়ারি পানি পান করতে গিয়ে দুর্গন্ধ টের পান। বিষয়টি হল প্রভোস্টকে জানানো হয়। দূষিত পানি পান করে ড. এমএ রশীদ হলের ৩ জন এবং আহসানউল্লাহ হলের ১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, এখন আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে।
আহসানউল্লাহ হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা না থাকলে হয়তো বাড়িতে চলে যেতাম। তা ছাড়া বাড়ি দূরে হওয়ায় অনেকে ইচ্ছে থাকলেও যেতে পারছেন না। প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, পানিতে ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়লে এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল হেলথ সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু হেনা আবিদ জাফর বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা আবাসিক হলে টিম পাঠাই। ২৪ ঘণ্টা দুই শিফটে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। চারজনের ডায়রিয়া হয়েছিল। জীবাণু তেমন ডেডফুল না। চিকিৎসাসেবার পর সবাই সুস্থ আছে।
শেরেবাংলা হলের সহকারী প্রভোস্ট আমানউদ্দীন বলেন, অন্যান্য হলের চেয়ে আমাদের অবস্থা ভালো। শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুয়ায়ী পর্যবেক্ষণ করে কিছু অসুস্থ শিক্ষার্থী ছিল বলে জানতে পারি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি হল প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না বলে জানান সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট এবিএম তৌফিক হাসান। তিনি পরামর্শ দেন, ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার।
জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ (ডিএসডব্লিউ) পরিচালক ড. একেএম মাসুদ বলেন, পানির সমস্যার কথা জানার পর আমরা সেটাকে অ্যাড্রেস করি, ল্যাবে টেস্ট করাই। পাশাপাশি ক্লোরিন টেস্ট করে বিকল্প পানির ব্যবস্থা করা হয়।
প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ক্যাম্পাসে আমাদের নিজস্ব সুপেয় পানির ব্যবস্থা আছে। আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে সরাসরি পানি ট্যাংকে জমা হয়। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই সেইফ ওয়াটার কমিটি রয়েছে। এখানে অন্য কোথাও থেকে জীবাণু মিশে যাওয়াটা একটি দুর্ঘটনা।
বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর থেকে ১৮ জানুয়ারি এই সমস্যায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ সম্ভাব্য সকল স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পুরকৌশল বিভাগের ল্যাবে ব্যাকটেরিওলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আবাসিক হলের ডাইনিংয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা, হলের ওয়াটার ফিল্টারসমূহের কার্টিজ ফিল্টার পরিবর্তন করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ ক্যাম্প থেকে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা দেওয়া, ক্যাম্পাসের সকল পানির ট্যাংক পরিষ্কার করা, মেইন পাম্প স্টেশনের ভূগর্ভস্থ পানি ডিজইনফ্যাক্ট করার জন্য ক্লোরিন ডোজিং করা হচ্ছে।