বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৪:১০ পিএম
অনশনে চবির ৫ শিক্ষার্থী। প্রবা ফটো
সকল অযৌক্তিক কোটা বাতিল ও জুলাই আন্দোলনে হত্যাকারীদের বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে অনশনে বসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ শিক্ষার্থী।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ওই শিক্ষার্থীরা অনশনে বসেন। পাশাপাশি একই দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
অনশনে বসা পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন- বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তালাত মাহমুদ রাফি, ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-'২০ শিক্ষাবর্ষের রশিদ দিনার, একই সেশনে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তানিম মুশফিক, বাংলা বিভাগের শুভ আহমেদ ও আইন বিভাগের সাইরিব রহমান সুপ্ত।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘জনে জনে খবর দে, পোষ্য কোটার কবর দে, তারুয়ার ক্যাম্পাসে পোষ্য কোটার ঠাই নাই, ফরহাদের ক্যাম্পাসে পোষ্য কোটার ঠাই নাই , বাতিল চাই বাতিল চাই, পোষ্য কোটার বাতিল চাই, বিচার চাই বিচার চাই, হত্যাকারীদের বিচার চাই ‘ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকল অযৌক্তিক কোটা বাতিল ও জুলাই আন্দোলনে হত্যাকারীদের বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় আন্দোলনকারীরা।
অনশনকারী ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রশিদ দিনার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জুলাইয়ের পর যেখানে কোটার কোনো অস্তিত্ব থাকার কথা না সেখানে আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসতেছি। কিন্তু তারা নানান অজুহাতে পোষ্য কোটার রাখার পক্ষে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আমরা মনে করতেছি। আমরা ইতোমধ্যেই আলটিমেটাম দিয়েছি কিন্তু প্রশাসন আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। তাই আমরা অনশনে বসেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসন পোষ্য কোটা বাতিল করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আছি।
কোটা বাতিল, ভর্তি আবেদন ফি কমানোসহ ৯ দফা দাবিতে ২৯ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবিগুলো হলো— ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ২০০ টাকা করতে হবে, মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কোটা, পোষ্য কোটাসহ সব ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিল করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করতে হবে, বন্ধ হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা, বাড়ির দূরত্ব এবং মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ ও অতিদ্রুত নতুন দুইটি হল নির্মাণ করতে হবে, ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল এক্সট্রা কারিকুলার সংগঠনসমূহকে অফিস বরাদ্দ দিতে হবে, অনতিবিলম্বে টিএসসি নির্মাণ করতে হবে, অতি দ্রুত চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন দিতে হবে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল প্রদান ও অনলাইনে রেজাল্ট প্রকাশসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড অনলাইনভিত্তিক করতে হবে এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গুপ্তহামলার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।