বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫২ পিএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫৪ পিএম
আটক ছাত্রলীগকর্মী সাজ্জাদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পরীক্ষা দিতে এসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদে বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশ নিতে আসলে দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাকে শনাক্ত করেন। এর পর আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করলে বিকেল সাড়ে ৩টায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক ছাত্রলীগকর্মী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাজ্জাদ চবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তিনি এর আগেও নিরাপত্তার কথা বলে গোপনে আলাদা কক্ষে ছয়টি পরীক্ষা দিয়েছেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। তারা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?’ স্লোগান দেন।
ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসান হাবিব অভিযোগ করেন, ‘সাজ্জাদ ছাত্রলীগের একজন জঙ্গি নেতা এবং আমার বিভাগের ছোট ভাই হৃদয় তরুয়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। এমন একজন সন্ত্রাসীকে ক্যাম্পাসে দেখে আমরা বিস্মিত। প্রশাসনের এই ব্যর্থতা নিন্দনীয়।’ রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হাজারী বলেন, ‘সে জুলাই আন্দোলন প্রত্যক্ষভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। অনলাইনের মাধ্যমে নানাভাবে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছে। আমরা এই হামলাকারীকে আর চবি ক্যাম্পাসে দেখতে চাই ননা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবীর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো নির্দেশনা না থাকায় আমরা তার পরীক্ষার সুযোগ দেই। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিতে দিয়েছি। যে কেউ যেকোনো আদর্শ ধারণ করতে পারে। আমাদেরকে তার বিরুদ্ধে লিখিত নির্দেশনা দিলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতাম না।’
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, ‘রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক ছাত্রকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করেছে। পরে তারা তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। আমরা তাকে পুলিশ এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করেছি এবং প্রমাণসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।’