সেলিম আহমেদ
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:৪৫ এএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:১৭ এএম
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যবই নিয়ে এবারও জটিল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র দুদিন বাকি থাকলেও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অনিশ্চয়তার মেঘ সরাতে পারেনি। মাধ্যমিকের বেশিরভাগ বই ছাপানোর কাজ এখনও শুরুই হয়নি। ফলে বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়ার ঐতিহ্য রক্ষা দূরে থাক, মার্চেও দেওয়া যাবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যবই নিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নানা অনিয়ম ও গাফিলতির জেরে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে
এবার বই ছাপাতে বাজেট বেড়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। মুদ্রণকারীরা সিন্ডিকেট করে দর বাড়িয়ে
হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রায় শতকোটি টাকা। আবার সরকার শুরু থেকেই এবার বইয়ের মানে আপস না করার
কথা বললেও তা ঠেকাতে পারছে না। এরই মধ্যে বিভিন্ন ছাপাখানা পরিদর্শন করে গুণগত মানহীন
প্রায় এক লাখ বই নষ্ট করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকি করলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন
সংশ্লিষ্টরা। ব্যয় কমাতে এবার ঘটা করে হচ্ছে না বই উৎসবও। এনসিটিবি বলছে, বছরের প্রথম
দিন সব বই দেওয়া না গেলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে বই দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বইয়ের মানের
প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ বিষয়ে বলেন, যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই, বিতরণ ও সরবরাহ করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। আশা করি, দ্রুত এ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
পাঠ্যবই ছাপার সর্বশেষ
অবস্থা
প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছাপার
কাজ মোটামুটি এগিয়ে গেলেও মাধ্যমিকের অধিকাংশ বইয়ের ছাপার কাজ শুরু হয়নি। টেন্ডারও
বাকি রয়েছে কয়েকটি লটের বইয়ের। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ছাপার কাজ শুরু হতে আরও কয়েক দিন
লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাথমিকের
বই ছাপার কাজ শেষের পথে। অন্যদিকে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই ছাপানোর জন্য
প্রেস মালিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। নবম ও দশম
শ্রেণির জন্য চুক্তি হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এছাড়া ২৫টি লটের বই ছাপার জন্য আগামী
সপ্তাহের মধ্যে রি-টেন্ডার করা হবে।
এনসিটিবির কর্মকর্তা ও একাধিক
প্রেস মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ পেয়েছে
১১৬টি প্রেস। এর মধ্যে ৪৫টি প্রেস ছাপার কাজ শুরু করেছে। বাকিরা ব্যাংক লোন, চুক্তি
না হওয়াসহ নানা জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে পারেনি।
বছরের প্রথম দিন প্রতীকীভাবে
হলেও সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়ার ভাবনা থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাধ্যমিকের
তিনটি বই দেওয়ার চিন্তা করছে এনসিটিবি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন,
অন্য বছর জুন থেকেই ছাপার কাজ শুরু হয়। কিন্তু এবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের
পর আগের সব টেন্ডার বাতিল করা হয়। এরপর অক্টোবর-নভেম্বর থেকে নতুন করে শুরু হয় ছাপার
কাজ। এত কম সময়ে সব বই দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই আমরা মাধ্যমিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে
বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বই দিতে চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। বাকি বইগুলোও দ্রুত সময়ের
মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
একাধিক প্রেস মালিক বলছেন,
প্রথম দফার টেন্ডার বাতিল করে দ্বিতীয় দফা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, বইয়ের পাণ্ডুলিপি
প্রণয়ন ও চুক্তিতে বিলম্বসহ অন্যান্য জটিলতার কারণে এবার বই দিতে দেরি হবে। এছাড়া ব্যাংক
লোন ও কাগজের সংকটও সময়মতো বই পেতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
তারা বলেন, বেশিরভাগই প্রেসই
ব্যাংক লোন নিয়ে বই ছাপার কাজ করে। টেন্ডারে কাজ পাওয়ার পর এনসিটিবির সঙ্গে প্রেসগুলোর
একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের লোন নেওয়া হয়। এই লোন পেতে
কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। লোন পাওয়ার আগে অনেক প্রেসই কাজ শুরু করতে পারে না। এছাড়া বই
ছাপার জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ কাগজ লাগে, সেই পরিমাণ কাগজ বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না।
এবার কাগজ সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেক প্রেসই কাগজের অভাবে কাজ করতে পারছে না বলে দাবি
করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এনসিটিবি
যে মানের কাগজের বই ছাপার কথা বলেছে, দেশে সেই কাগজ উৎপাদন করে মাত্র ৬টি মিল। এসব
মিলে প্রতিদিন কাগজ উৎপাদন হয় প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন। আর প্রতিদিন কাগজের চাহিদা রয়েছে
১৮০০ থেকে ২০০০ মেট্রিক টন। এছাড়া অন্যান্য বছর জুন থেকে কাগজ কিনে মজুদ রাখতেন মুদ্রণকারীরা।
এবার কাগজ কেনা শুরু হয়েছে নভেম্বর থেকে। ফলে বাড়তি দাম দিতে এবার কাগজ মিলছে না। পরিস্থিতির
বাস্তবতা বিবেচনা করে মুদ্রণ শিল্প সমিতির একটি অংশের একজন নেতা যথাসময়ে বই সরবরাহ
করা সম্ভব নয় জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়ে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়
চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি সেই চিঠি প্রত্যাহার করে নেন।
সূত্র জানায়, আগামী ২৫ মার্চ
পর্যন্ত সময় চেয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির
সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জুনায়েদুল্লাহ আল মাহফুজ। একই সঙ্গে টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী
৫০ শতাংশ বই জানুয়ারিতে সরবরাহের শর্ত রহিত করা এবং পুস্তক মুদ্রণের আগে আংশিক বিল
পরিশোধেরও দাবি জানান তিনি। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন ডেকে
এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ মুদ্রণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, চুক্তির পর বই ছাপার জন্য সর্বোচ্চ ৯৬ দিন সময় দিতে হয়। এবার দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪০ দিন। তারপরও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে আমরা দ্রুত বই দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে বাজারে কাগজের সংকটের কারণে ছাপা কিছুটা পেছাতে পারে।
শতকোটি টাকা গচ্চা,
বেড়েছে ছাপার খরচও
গত দুই বছর সিন্ডিকেট করে
সরকারি দর থেকে কম মূল্যে বই ছাপিয়েছিলেন প্রেস মালিকরা। তবে এবার ঘটেছে উল্টোটা। তারা
এবার সিন্ডিকেট করে সরকারি প্রাক্কলন থেকে কয়েকগুণ বেশি বাজেটে বই ছাপার কাজ নিয়েছেন।
এতে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় শতকোটি টাকা।
এনসিটিবির সূত্রমতে, এবার
মাধ্যমিকের ষষ্ট থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি ফর্মার (৮ পৃষ্ঠা) প্রাক্কলন দর থেকে
১৭-১৮ শতাংশ আর নবম ও দশম শ্রেণিতে প্রাক্কলন থেকে ৮-৯ শতাংশ বেশি দরে বই ছাপার কাজ
নিয়েছেন প্রেস মালিকরা। এর আগে গত বছর মাধ্যমিকের বই প্রতি ফর্মা (৮ পৃষ্ঠা) প্রাক্কলন
করা হয় ৩ টাকা ১০ পয়সা। এর বিপরীতে মুদ্রণকারীরা ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে শুরু করে ২ টাকা
দরে টেন্ডার দিয়েছে, যা প্রাক্কলিত দরের চেয়ে গড়ে ৩০-৩৫ শতাংশ কম।
এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান,
বইয়ের কাগজ-কালিসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম এবার খুব একটা বাড়েনি। তারপরও মুদ্রণকারীরা
সিন্ডিকেট করে এবার প্রাক্কলন থেকে দর বাড়িয়ে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক টেন্ডার
থাকলে তারা এটা করতে পারত না।
সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার
করে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সহসভাপতি জুনায়েদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, গত বছরের
চেয়ে এবার বইয়ের সংখ্যা, কাগজ ও ছাপার মান বেড়েছে, তাই খরচও বেড়েছে।
এদিকে নতুন কারিকুলাম বাতিল
করে পুরোনো সৃজনশীল কারিকুলামে ফেরত যাওয়ায় এবার বেড়েছে বইয়ের সংখ্যা। এর সঙ্গে বেড়েছে
মুদ্রণ খরচও। প্রথমে ১২০০ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে
১৭৫০ কোটি টাকা।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৩
সালে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার কপি নতুন বই ছাপানো হয়েছিল। এজন্য খরচ হয়েছিল ১ হাজার
৪০০ কোটি টাকা। এবার মোট বইয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ১৬ লাখ। এসব বই ছাপতে
৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম রিয়াজুল হাসান বলেন, নতুন কারিকুলামের কারণে গত বছর নবম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর আবার পুরোনো কারিকুলামে ফেরত যাওয়া হয়েছে। ফলে নবম শ্রেণিতে ফিরেছে বিভাগ বিভাজন। এছাড়া এবার যারা দশম শ্রেণিতে উঠবে, তাদেরও বিভাগ বিভাজন করা হবে। এতে দশম শ্রেণিতে ৬ কোটি ৬৪ লাখ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। এ কারণে বইয়ের খরচ বেড়েছে।
ঠেকানো যাচ্ছে না নিম্নমানের
বই ছাপা
এবার মানসম্মত বই সরবরাহ করার
বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে সরকার। দফায় দফায় বৈঠক করে এনসিটিবিসহ সরকারের উচ্চমহল
থেকে মুদ্রণকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনোভাবেই নিম্নমানের বই ছাপানো যাবে না। এনসিটিবির
মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ও নিজস্ব তদারকি টিমসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও বই
ছাপার কাজ তদারকি করছেন। তারপরও বন্ধ হচ্ছে না নিম্নমানের বই ছাপানো। এরই মধ্যে ছাপা
হওয়া নিম্নমানের প্রায় ১ লাখ বই নষ্ট করেছে এনসিটিবি।
গতবারের চেয়ে এবার পাঠ্যবইয়ের
কাগজের ওজন ও উজ্জ্বলতা বাড়ানো হয়েছে। গত বছর কাগজের ওজন ছিল ৭০ আর উজ্জ্বলতা ছিল ৮০।
এ বছর কাগজের ওজন ৮০ এবং উজ্জ্বলতা ৮৫ করা হয়েছে।
এনসিটিবির তথ্যমতে, নিম্নমানের
কারণে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস ও কর্ণফুলী আর্ট প্রেসের ৫০ হাজার, লেটার এন কালারের
৫ হাজার, আনন্দ প্রিন্টার্সের ১০ হাজার, কচুয়া প্রেসের ৬ হাজার, নুরুল ইসলাম পাবলিকেশনের
৬ হাজার বই নষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগÑ বিগত
কয়েক বছর ধরেই অগ্রণী, কচুয়া, কর্ণফুলী আর্ট প্রেস ও আনন্দ প্রিন্টার্স নিম্নমানের
বই সরবরাহ করে আসছে।
এর মধ্যে অগ্রণী প্রিন্টার্স
ও কর্ণফুলী আর্ট প্রেসের মালিক হলেন কাউছার উজ জামান রুবেল। কচুয়া প্রেস হচ্ছে তার
ভগ্নিপতি হুমায়ুন কবিরের। রুবেল ছিলেন আওয়ামী লীগ আমলে এই সেক্টরে সবচেয়ে প্রভাবশালী।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত স্টাফ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পানি জাহাঙ্গীরের
আশীর্বাদে এনসিটিবির পাঠ্যবই ছাপার কাজ শুরু করেন তিনি। দিনে দিনে তিনি হয়ে ওঠেন তৎকালীন
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলেরও আশীর্বাদপুষ্ট। বিগত সরকারের
আমলে এনসিটিবির বেশিরভাগ বই ছাপাতেন তিনি। অবলীলায় সরবরাহ করতেন নিম্নমানের বই। এ নিয়ে
বিগত সময়ে তাকে একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়ে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করা হলেও সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় ও হোমরাচোমরাদের হস্তক্ষেপে তিনি পার পেয়ে যেতেন।
সেই রুবেল এবারও নিম্নমানের বই দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে ফোনে কথা বলতে
চাইলে কাউছার উজ জামান রুবেল এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি রাস্তায় আছেন, পরে ফোন করবেন।
এ কথা বলে কল কেটে দেন। এরপর আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এনসিটিবির উৎপাদন নিয়ন্ত্রক আবু নাসের টুকু বলেন, মানসম্মত বই সরবরাহ করতে আমরা এবার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করব। মান নিয়ে কোনো ছাড় দেব না। এরই মধ্যে আমরা তদারকি করে নিম্মমানের প্রায় এক লাখ বই নষ্ট করেছি। আমাদের তদারিক অব্যাহত রয়েছে।
এবার হবে না বই উৎসব
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার
২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন বই উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিত নতুন বই। ক্ষমতার
পটপরিবর্তনের পর সেই উৎসব থেকে সরে এসেছে সরকার। ব্যয় কমাতেই উৎসব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা
জানিয়েছেন। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম রিয়াজুল হাসান বলেন, এবার বই উৎসব হবে
না। তবে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেবেন শিক্ষকরা।
পাঠ্যবইয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান একেএম রিয়াজুল হাসান বলেন, আশা করছি বছরের প্রথম দিনই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই পাবে। আর মাধ্যমিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের তিনটি বই দেওয়ার চেষ্টা করছি। বাকি বইগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে। এছাড়া এবার বইয়ের মানে কোনো আপস করা হবে না। কেউ নিম্নমানের বই সরবরাহ করলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।