× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাবিতে সব সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট, ২৪ দিনে ছিনতাই ১০ রিকশা

জাবি সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০২ পিএম

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০০ পিএম

জাবিতে সব সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট, ২৪ দিনে ছিনতাই ১০ রিকশা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে ১০টি রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা। এছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তার কোয়ার্টার থেকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যাম্পাসের সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়ায় অপরাধীরা সহজেই চুরি-ছিনতাই করে পার পেয়ে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা শাখার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ বৃহস্পতিবারও (২৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর দুই দিন আগে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর)  চুরি হয়েছে নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরীর মোটরসাইকেল।

২৪ নভেম্বর ছিনতাই হওয়া রিকশার চালক মো. আমিনুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি প্রান্তিক কমিউনিটি মসজিদের পাশে রিকশা তালা দিয়ে নামাজ পড়ছিলাম। নামাজ শেষে এক যাত্রী আমাকে আল বেরুনি হলে নিয়ে কিছু খাওয়ায়। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার রিকশাটি নেই। তখন আমি আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। এই চুরির পেছনে বড় কোনো হাত আছে বলে আমার মনে হয়। আজ রিকশা ছিনতাই হচ্ছে, কাল আরও বড় কিছু ঘটতে পারে।’

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্পাসের এক রিকশাচালক বলেন, ‘ছিনতাই চক্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে রিকশায় ওঠে। পরে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার কথা বলে রিকশাচালকদের বোটানিক্যাল গার্ডেন, বিশমাইল পানির ট্যাংক ও স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠসহ নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর তাদের বিভিন্নভাবে অজ্ঞান করে রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।’

ছিনতাই হওয়া রিকশাগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন। 

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ক্যাম্পাসে ৩০৮টি ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দেয়া আছে। তবে ক্যাম্পাসে হাজারেরও অধিক অনুমোদনহীন রিকশা চলাচল করে। এসব অনুমোদনহীন রিকশাকেই টার্গেট করে সংঘবদ্ধ চক্রটি।’

অনুমোদনহীন রিকশাকেই চক্রটি কেন টার্গেট করে এমন প্রশ্নের জবাবে সুদীপ্ত শাহীন বলেন, ‘এসব অনুমোদনহীন রিকশাগুলো মূলত সাভার, নবীনগর ও আশুলিয়া এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসে। চক্রটিও এ বিষয়ে আগে থেকেই অবগত। ক্যাম্পাসে এসব রিকশা চলাচলের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেই। তাই চক্রটি এসব অনুমোদনহীন রিকশাগুলোকে টার্গেট বানায়।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এসব রিকশা ক্যাম্পাসে চলাচলের অনুমোদন নেই, তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে এসব রিকশার মালিকদের ডেকে আমরা মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অসহযোগিতা করা হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে মোট ২২টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে বর্তমানে সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরাই অকেজো হয়ে গেছে।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে দাবি করে এই তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো সিসিটিভি ফুটেজ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আমি তিনবার সিসিটিভির সংস্কারের জন্য রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক গলদ আছে। একটা চুরির ঘটনার পরে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করতে গেলে দেখা যায় সিসিটিভি নষ্ট। অপরাধী চক্রও এসব দুর্বলতার কথা জানে বলেই দিন-দুপুরে অপরাধের মাত্রা বাড়ছে। এখন পরিযায়ী পাখি দেখতে অনেকেই আসবে, তাই শীতকালে নিরাপত্তা জোরদার করা অতি জরুরি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, ‘নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা ইতোমধ্যে নিরাপত্তা শাখা ও এস্টেট অফিসের সাথে কথা বলেছি। রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাসে সিসিটিভি সক্রিয় করার বিষয়েও কাজ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা