× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিতুমীর বিতর্ক ক্লাব

শিক্ষাসফরে মহেরা জমিদারবাড়ি

সাজেদুল ইসলাম শুভ

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৫৫ পিএম

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৪৫ পিএম

শিক্ষাসফরে মহেরা জমিদারবাড়ি ভ্রমণ

শিক্ষাসফরে মহেরা জমিদারবাড়ি ভ্রমণ

ভ্রমণে দূর হয় ক্লান্তি, কাজে ফিরে আনন্দ আর গতি। সরকারি তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ৭ মার্চ। প্রতিষ্ঠার ৫ বছরেও বিতার্কিকরা একটিও আনন্দভ্রমণ সম্পন্ন করতে না পারার আক্ষেপ পুষে বেড়াচ্ছিল। সে আক্ষেপ দূর করার উপায় হয়ে যেন আসলো শিক্ষাসফরে মহেরা জমিদারবাড়ি ভ্রমণ। 

বছর দুই আগে সবাই মিলে ট্যুর আয়োজন করার পরিকল্পনা করলেও করোনা মহামারির ধাক্কা সবকিছুই ভেস্তে দেয়। ২০২২ সালের ২২ মে আমাকে সভাপতি করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাবের কমিটি করা হয়। চেষ্টা করতে থাকলাম সবকিছু পরিকল্পনামাফিক বাস্তবায়ন করার। মহেরা জমিদারবাড়িকে ভেন্যু ঠিক করে ট্যুর প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু করি। বিতার্কিকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ল ১৮ নভেম্বরের আনন্দভ্রমণকে ঘিরে।

আনন্দভ্রমণে শিক্ষক প্যানেল থেকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মালেকা বিলকিস আপা ও প্রভাষক মনিকা আপা এবং জিটিসিডিসির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাহবুব হাসান রিপন ভাই। আমরা ট্যুরের আগের রাতেই ট্যুরের দিনের নাস্তা, পানিসহ হালকা খাবারগুলো প্রস্তুত করে রাখলাম। পরের দিন সকাল ৭টার মধ্যে সবাই ক্যাম্পাসে হাজির হলাম। সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে আমরা ৬৪ জন ভ্রমণপিপাসু বিতার্কিককে নিয়ে গ্রুপ ছবি তুলে সকাল ৮টার দিকে বাসে চড়ে রওনা হলাম। গানের তালে তালে গাড়ি চলতে লাগল গন্তব্যের পথে। গাড়িতেই সবাই নাস্তা সেরে নিলাম। আব্দুল্লাহপুর পার হওয়ার পরই আশুলিয়ার রাস্তার দু’পাশের অবারিত খোলামাঠের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য বিতার্কিকদের চোখের তৃষ্ণা মেটাতে থাকল।

টাঙ্গাইল জেলায় প্রবেশ করার পর আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত জমিদারবাড়ি দেখার জন্য চোখ হাঁসফাঁস করছিল। মির্জাপুরের হাইরোড ধরে গাড়ি এগোতে লাগল। দু’পাশের ফসলের মাঠ যেন দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের সন্ধান দিচ্ছিল। অবশেষে ২ ঘণ্টা জার্নির পর সকাল ১০টা নাগাদ আমরা পৌঁছে গেলাম মহেরা জমিদারবাড়ি সংলগ্ন ডুবাইল বাসস্ট্যান্ডে। ডুবাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রামের সরু আঁকাবাঁকা পথ ধরে ১০ মিনিট গাড়ি চলার পরই আমরা পৌঁছালাম জমিদারবাড়ির গেটে।

৮ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত ব্রিটিশ আমলের এই জমিদারবাড়িটি ১৯৯০ সাল থেকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা গেটের টিকিট সংগ্রহ করে ভেতরে প্রবেশ করলাম। ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল ‘বিশাখা সাগর’ নামের একটি দিঘী। রাস্তার উত্তরপাশে জমিদারবাড়ির সুবিশাল ৩টি অট্টালিকা ও কারুকার্যখচিত গেট। বিশাখা সাগরের উত্তরপাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে জমিদারবাড়িকে সামনে নিয়ে আমরা দাঁড়ালাম ব্রিফিং দেওয়ার জন্য। জিটিসিডিসির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাহবুব ভাই ও আমরা ব্রিফিংয়ে দিকনির্দেশনা দিলাম। এবার সবাই মিলেই জমিদারবাড়ির দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করতে লাগলাম।

মালেকা ম্যাম ইতিহাস থেকে এই জমিদারবাড়ি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানালেন। আমরাও জানতে পারলাম এই জমিদারবাড়িটি স্থাপিত হয়েছিল ১৮৯০ সালে। জমিদারবাড়ির ৪টি ভবনের নাম হলোমহারাজ লজ, আনন্দ লজ, চৌধুরী লজ এবং কালীচরণ লজ। এ ছাড়া রয়েছে কাচারি ভবন, প্যারেড গ্রাউন্ড, মিনি চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, বিশ্রামাগার ইত্যাদি। ভবনের চারপাশে পুরো এলাকা রঙিন টাইলস করা, কারুকার্যখচিত। প্রতিটি ভবনের সামনেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। আমরা সবাই মিলে কিছুক্ষণ দেখতে লাগলাম নয়নাভিরাম ফুলের বাগান শশী লজ, জাদুঘরসহ দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপনা। দুপুর ১২টার দিকে আমরা ১০-১২ জনের একটা দল ফুটবল নিয়ে চলে গেলাম একাডেমিক ট্রেনিং মাঠে। পাশেই প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন পুলিশদের সারিবদ্ধ করে ট্রেনিং চলছিল। আমরা কিছুক্ষণ ফুটবল প্র্যাক্টিস করে নিলাম। আমাদের আনন্দভ্রমণের বাকি সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মহেরা জমিদারবাড়ির সৌন্দর্য অবলোকন করতে ব্যস্ত।

প্রায় ৩০ মিনিট খেলার পর আমরা আবারও জমিদারবাড়ির মূল স্থাপনায় ফিরে এলাম। দুপুরের নামাজের পর আমরা সবাই সেখানকার পুলিশবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত হোটেলে দুপুরের খাবার সেরে নিলাম, যা আমরা আগের দিনই অর্ডার করেছিলাম। দুপুরের ভোজের পর আমরা সবাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য জমিদারবাড়ির একদম পেছনে সেই পুলিশ ট্রেনিং মাঠের পাশে গাছপালায় ভরপুর একটা ছোট পার্কে হাজির হলাম। সেখানেই একটা পাকা করা মেঝেতে রম্য বিতর্কের ব্যবস্থা করা হলো। বিতর্কের বিষয় ছিলোএই সংসদ মনে করে জীবনসাথী যদি হয় সহপাঠী, জীবনে ছুঁয়ে যাবে সোনার কাঠি। সবাই গোল হয়ে বসে মনোমুগ্ধকর বিতর্কটি উপভোগ করলাম।

এরপরই মেয়েদের জন্য বালিশ খেলা ও ছেলেদের বেলুন ফুলানো খেলা সম্পন্ন হয়। সবাই অনেক আনন্দ নিয়ে খেলাগুলোতে অংশগ্রহণ করে। এরই ফাঁকে একদল ছোট পরিসরে ক্রিকেট খেলা শুরু করে দেয়। সন্ধ্যার পরিবেশ তৈরি হয়ে গেল জমিদারবাড়িতে। আমাদেরও ফিরতে হবে। সবাই মিলে চৌধুরী লজ-এর সামনে গ্রুপ ফটো তুলে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হলাম ৫টার দিকে। নবীনগর, সাভার, গাবতলী হয়ে গাড়ি চলতে লাগল। গাড়িতেই লটারির পুরস্কার ঘোষণা করা হলো এবং সন্ধ্যার নাস্তা করা হলো।

রাত ৮টার আগেই আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে এলাম এবং একটি আনন্দময় ভ্রমণের সমাপ্তি ঘটল। পরবর্তী ২ দিন সবার মধ্যেই ভ্রমণের আনন্দ বিরাজ করছিল। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জানতে ভ্রমণের বিকল্প নেই। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য মহেরা জমিদারবাড়ি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার জায়গা। টাঙ্গাইলের এমন দৃষ্টিনন্দন মহেরা জমিদারবাড়ির স্মৃতি আজীবন স্মরণে থাকবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা