বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১১:২৯ এএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১২:১৩ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় আয়োজিত হয়েছে নবান্ন উৎসব। প্রবা ফটো
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধারণ করে শহুরে পরিবেশে গ্রামীণ ছোঁয়া দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় আয়োজিত হয়েছে নবান্ন উৎসব। নানা ধরনের গান, নাচ আর কবিতার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়েছে অগ্রহায়ণকে। শহুরে মানুষের মনে নবান্নের আমেজ দিতে খই, মুড়িমুড়কি, মোয়া, মুরালি, বাতাসা দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন আয়োজকরা।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় জাতীয় নবান্ন উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন হয় এ উৎসবের। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পূর্তি হলো নবান্ন উৎসবের। এবারের আয়োজন উদ্যাপন পর্ষদের সহসভাপতি হাসিনা মমতাজকে উৎসর্গ করা হয় এবং তার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৭টায় শিল্পী হাসান আলীর বাঁশির সুরের মূর্ছনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন। এ উৎসবে বরেণ্য সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তি শিল্পীরা একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি পরিবেশন করেন। একই সঙ্গে ছিল সংখ্যালঘু জাতিসত্তার পরিবেশনাও। বিকালে আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দিনভর নানা সংগীত, নৃত্য আর আবৃত্তির একের পর এক আয়োজনে উৎসবমুখর ছিল চারুকলাপ্রাঙ্গণ।
উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন ধানবিজ্ঞানী ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় নবান্ন উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক নাঈম হাসান সুজা এবং সভাপতিত্ব করেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ ও আবৃত্তিশিল্পী ও জাতীয় নবান্ন উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের সহসভাপতি কাজী মদিনা। পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসান চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহসভাপতি মানজার চৌধুরী সুইট এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় নবান্ন উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের সহসভাপতি সঙ্গীতা ইমাম, আফরোজা হাসান শিল্পী ও সাবরিনা হাবিব নিপু।
ধানবিজ্ঞানী ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘আজ এ অনুষ্ঠানে এসে মনে হয়েছে সত্যি সত্যিই ধানের ক্ষেত থেকে উঠে আসা মানুষ। আমাদের ধানের ফলন বেড়েছে। যারা ধানের ক্ষেতে কাজ করে তারাই আসল কৃষিবিজ্ঞানী। আমাদের সমৃদ্ধির জন্য তারা সবচেয়ে বেশি কাজ করে। কিন্তু পদ্ধতিগত কারণে তাদেরই আমরা সুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই না, তাদের অভাব যায় না। আমাদের এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি অনেক আগে থেকই বলে আসছি, যে ধানের যে জাত সে নামেই বাজারে চাল থাকতে হবে। কিন্তু বাজারে নানা নামে চাল বিক্রি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। তাই আপনাদের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে, আমি অমুক জাতের চাল চাই।’
উদ্যাপন পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সন্ধান, আমাদের উৎসমূলের সন্ধান, আত্মিক সম্পর্কের সন্ধান দেওয়ার জন্য আমাদের এ প্রয়াস। সেই সঙ্গে আমাদের কৃষক সম্প্রদায় যারা রাতদিন অপরিসীম পরিশ্রম করে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের অন্ন জোগান দেন, তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদানও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। বাঙালির সংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্য বিবেচনা করে ১ অগ্রহায়ণ “জাতীয় নবান্ন উৎসব দিবস” হিসেবে সমাদৃত হোক, স্বীকৃত হোক এটি আমাদের একান্ত অভিলাষ। নবান্ন উৎসব উদ্যাপনের ২৫ বছর পূর্তিতে আয়োজনটি আমাদের সহসভাপতি বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী প্রয়াত হাসিনা মমতাজের নামে উৎসর্গ করা হলো।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে পাঁচ দশকেরও পর নবান্ন উৎসব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ইতিহাসের সেই পরম্পরা। আজকের দিনে নতুন পরিস্থিতিতে মুক্তিসাধনার নতুন পথ তৈরিতে নবান্ন আমাদের প্রেরণা, জাতির অপরিমেয় শক্তির উৎস। আর তাই ভবিষ্যতের বিকাশের উপায় এবং মিলন ও সম্প্রীতির সমাজ নির্মাণ সাধনায় নবান্ন আবার জাগে আমাদের জীবনে, নতুন আশার বাণী নিয়ে নববিকাশের শক্তিতে।’