বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৯ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে আমারণ অনশনে বসেছে শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা শহীদ জোহা চত্বরের সামনে সড়কে খোলা আকাশের নিচে তারা আমরণ অনশনে বসে।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাবি ভিসি পোষ্য কোটা নির্মুলের রিভাইস কমিটি করার ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে আপাতত সরে আসে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের কোটা বাতিল করে পোষ্য কোটা বহাল রেখেই প্রথম বর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাবি প্রশাসন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ফেডারেশন রাবি শাখার সদস্য সচিব ওয়াজেদ শিশির, একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দিদারুল ইসলাম, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, ফোকলোর বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়া (শুভ) ও পপুলেশন সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক মেহেদী মারুফ, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমান উল্লাহ খান।
ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মেহেদী মারুফ বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কোটার বিরুদ্ধে। দেড় হাজার ভাইবোন শহীদ হওয়ার পরও যদি কোটা বহাল থাকে, তাহলে কিসের আন্দোলন করেছেন তারা? শিক্ষকদের কি এতই দৈন্যদশা যে তাদের সন্তানদের পোষ্য কোটা লাগবে। তারা কি সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী?
অনশনরত আরেক শিক্ষার্থী দিদারুল ইসলাম বলেন, অযৌক্তিক পোষ্য কোটা শিক্ষার্থীদের সমান অধিকার ও মেধার ভিত্তিতে শিক্ষালাভের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কোটা মূলত মেধার প্রতি অবিচার এবং সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরীর অন্তরায়। পোষ্য কোটা ব্যবস্থাটি শিক্ষার ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার মানদণ্ডকে ক্ষুন্ন করে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। যে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের যৌক্তিক দাবী মেনে না দিবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা অনশন ভাঙবোনা। প্রয়োজন হলে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ভাইয়ের মতো জীবন দিব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা ১ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। বিষয়টি আজ বিকেলে জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার। দাবি মেনে না নিলে প্রশাসন ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ আলটিমেটাম দেন।
রাবির উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমি নিজেও এই কোটা প্রথার বিরুদ্ধে ২০১২ সাল থেকে কথা বলে আসছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির একটি বড় অংশ এই কোটা প্রথার পক্ষে বলেছেন। আগে এটি ছিল ৪ শতাংশ এখন তা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কমিয়ে আনা হবে। এই লক্ষে একটি রিভিয় কমিটি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ওই কমিটি সাথে কথা বলবে। এর প্রেক্ষিতে আগামী সোম বারের মধ্যে কমিটি আমাদের প্রতিবেদন দিবেন। আশা করি আমরা বষিয়টির সমাধন করতে পারব।