× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাবেক উপাচার্যের বৈষম্যের শিকার বেরোবির ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৪ ২১:০২ পিএম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাসিবুর রশীদের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন ৯ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। সাবেক উপাচার্য চারজন শিক্ষক, দুজন কর্মকর্তা, তিনজন কর্মচারীকে তাদের যৌক্তক পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন।

বৈষম্যের শিকার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন-গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, সহকারী অধ্যাপক রহমতুল্লাহ,  ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহাগ আলী, বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিরাজাম মুনিরা প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী  আলতাব হোসেন সরকার, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফরহাদুজ্জামান, আইসিটি সেলের  হার্ডওয়্যার টেকনিশিয়ান  মো. শামিম হাসান,  মোহাম্মদ আরিফুল হাসান ও পরিবহন দপ্তরের ফোরম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধানকে ২০২২ সালের প্রথম দিকে জাতীয় পতাকা ইস্যু নিয়ে মামলার অজুহাতে সহযোগী অধ্যাপকের শুণ্য পদের সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়নি। পরবর্তী সময়ে অন্য আরেকটি রিট মামলার সংশ্লিষ্টতা দেখিয়ে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেননি সাবেক উপাচার্য। এতে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন ও সেশনজটে পড়েন। একইভাবে মামলার কারণ দেখিয়ে সহকারী অধ্যাপক পদের পদোন্নতি বোর্ডে ডাকা হয়নি রহমতুল্লাহ ও সোহাগ আলীকে এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিরাজাম মুনিরাকে প্রভাষক পদে স্থায়ী করেননি সাবেক উপাচার্য।

দুদকের মামলায় হাইকার্ট ও আপিল বিভাগের আদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন মামলার বিবাদী অতিরিক্ত পরিচালক এটিজিএম গোলাম ফিরোজ, উপ-রেজিস্ট্রার মোর্শেদ উল আলম রনি ও উপ-পরিচালক খন্দকার আশরাফুল আলমের চাকরি স্থায়ী করেন সাবেক ভিসি।

অর্থ হিসাব দপ্তরের মো. ফরহাদুজ্জামানকে মামলার কারণ দেখিয়ে উপ-পরিচালক পদে আপগ্রেডেশনের জন্য অভিজ্ঞতা ও অগ্রায়ন দেওয়া হয়নি। তিনিসহ আলতাফ হোসেন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশ সত্ত্বেও বকেয়া বেতন না পাওয়ায় হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন।

এদিকে সহকারী রেজিস্ট্রারের পদে পদায়ন চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা ড. জিয়াউল হক। এই রিট মামলা করা সত্ত্বেও তাকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির জন্য অগ্রায়ন দেওয়া হয়। এরপর মামলা প্রত্যাহার/নিষ্পত্তির শর্তে তিনি পদোন্নতি পান। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না হলে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করানো হয়। তিনিই একমাত্র অফিসার যিনি সকল ভিসির আমলে পদোন্নতি পান।

চারজন অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, চারজন অফিসার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তবে তাদের করা মামলা চলমান থাকা অবস্থায় একজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির অভিজ্ঞতা অগ্রায়ন দেওয়া হয় এবং তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মামলা প্রত্যাহার শর্তে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং মামলাটি প্রত্যাহার না হলেও তাকে যোগদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকলেও তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়। একই সঙ্গে বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিরাজাম মুনিরাকে মামলার কারণ দেখিয়ে প্রভাষক পদে স্থায়ী করা হয়নি।

আইসিটি সেলের হার্ডওয়্যার টেকনিশিয়ান মো. শামিম হাসান, মোহাম্মদ আরিফুল হাসান ও পরিবহন দপ্তরের ফোরম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিয়োগ পেলেও তাদের দশম গ্রেড পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই তিনজন একাধিকবার আবেদন করলেও বিষয়টি আমলে নেননি সাবেক উপাচার্য। বর্তমানে তারাও একটি রিট দায়ের করেছেন। যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

বৈষম্যের স্বীকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে  আলাপ করলে তারা বলেন, সাবেক উপাচার্যের আমলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদার জন্য রিট পিটিশন দায়ের করি। যার কারণে আমাদেরকে হয়রানির স্বীকার হতে হয়। এই রিট পিটিশনের কারনে সাবেক উপাচার্যের নির্দেশনায় নীতিমালায় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমাদের পদে নজিরবিহীন বৈষম্য রেখে গেছেন। তবে অন্যান্য রিট পিটিশনকারীদেরকে উপাচার্য সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা করে দিয়ে গেছেন।

তারা আরও জানান, সাবেক উপাচার্যের আমলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদার জন্য রিট পিটিশন দায়ের করি। যার কারণে আমাদেরকে হয়রানির স্বীকার হতে হয়। এই রিট পিটিশনের কারণে সাবেক উপাচার্যের নির্দেশনায় নীতিমালায় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমাদের পদে নজিরবিহীন বৈষম্য রেখে গেছেন। তবে অন্যান্য রিট পিটিশনকারীদেরকে উপাচার্য সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দিয়ে গেছেন।

সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড.মোঃ হাসিবুর রশীদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।

এ বিষয়ে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, যারা বৈষম্যের স্বীকার হয়েছেন, তারা আমাকে কিছু জানায়নি, আমি এগুলোর ব্যাপারে কিছু জানি না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা