বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:০৪ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাতিল না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলানোরও আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘শোনো ভাই, শোনো বোন, ঢাবির কোনো শাখা নেই’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘অধিভুক্তির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘অধিভুক্তি বাতিল করো, ঢাবিকে মুক্ত করো’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৯ সালে আমরা প্রথম সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিলের জন্য আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার ও তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান আমাদের এ দাবি মেনে নেননি। এখন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও আলাদা হতে চায়। তাহলে আবার কেনো তাদের অধিভুক্তই রাখা হচ্ছে। আমাদের মেয়েদের জন্য হলে সিট নেই। মেয়েদের হল নির্মাণের চিন্তা না করে তারা কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর সাত কলেজের জন্য আলাদা ভবন করার কথা বলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন থেকে সাত কলেজকে আলাদা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু তাদের টনক নড়ছে না। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম বলেছেন, সাত কলেজকে নাকি ঢাবির অধিভুক্তই রাখা হবে। আবার তাদের জন্য নাকি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আলাদা প্রশাসনিক ভবন করা হবে। আমরা তাদেরকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই ঢাবি ক্যাম্পাসে যদি একটি ইটও গাঁথা হয় সেটা হবে মেয়েদের হলের জন্য অন্য কারো জন্য না।’
এ সময় শিক্ষার্থীরা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাত কলেজকে ঢাবি অধিভুক্তি থেকে বাতিল না করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলবে।
এদিকে সরকারি সাত কলেজ সম্পর্কিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে ঢাবি কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি দিয়েছেন। জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে উপদেষ্টা পরিষদের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবগত হয়েছে। এই প্রস্তাব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের ইতিপূর্বে কোন আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মাননীয় উপদেষ্টাবৃন্দসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চমহলে আলাপ করেছে। সরকারও বিষয়টির জনগুরুত্ব বিবেচনা করে আন্তরিকতার সঙ্গে সাড়া দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীসহ প্রধান অংশীজনদের নিয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে (সম্ভাব্য তারিখ আগামী রবিবার) এ বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারে সরকার সম্মত হয়েছে।’