বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৫৬ এএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১১:৩৬ এএম
বরিশালের রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। ফাইল ফটো
বরিশালের রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় ১০ শিক্ষার্থীকে বদলির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দেশের বিভিন্ন স্থানের ৯ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিসে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে—কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসক উইং এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ১০ শিক্ষার্থীকে প্রশাসনিক কারণে এ বদলি করা হয়েছে।
রাজধানীর খামারবাড়ির একটি সূত্র জানিয়েছে, উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা বলছেন, অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করায় শাস্তিস্বরূপ তাদের এ বদলি করা হয়েছে।
নোটিস অনুযায়ী শিক্ষার্থী সিয়াম সরদারকে রংপুর, আরিফুল ইসলামকে গাইবান্ধা, মো. ইব্রাহিমকে ঝিনাইদহ, জাহিদ হাসান অন্তিমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায, জাবেদুর রহমান মাহিকে সিলেট, তাসনিম জাহান শেহতাজকে কুমিল্লা, নাজমুল হাসানকে ঝিনাইদহ, মারিয়া তুন ইভাকে শেরপুর, মোজাম্মেল হককে গাজীপুর ও সজীব মিস্ত্রীকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়েছে।
ওই নোটিস অনুযায়ী ২৪ নভেম্বর বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ২৬ নভেম্বরের পূর্বাহ্ণে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, ‘যারা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের শায়েস্তা করতে অধ্যক্ষ এ কাজটি করিয়েছেন।’
বরিশাল কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘মন্ত্রণালয় তদন্ত করে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
তদন্ত কমিটির প্রধান ঢাকা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মকবুল আহম্মেদ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সে অনুযায়ী বদলি করা হয়েছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশালের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বদলির ব্যাপারে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি।’
এ বিষয়ে খামারবাড়ি ঢাকার পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও মহাপরিচালকের স্টাফ অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’