সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ২২:০৭ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১২ পিএম
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ আট দফা দাবিতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা দিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও একটি ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ক্যাম্পাসে লাগানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়। গত ২৪ অক্টোবর সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। এছাড়া প্রশাসন বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক ও রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যা অপমানজনক। এ কারণে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে ক্ষমা চাওয়াসহ পদত্যাগ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর কয়েকটি হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও জনসংযোগ ও প্রকাশনা কর্মকর্তা খসরু মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ সবাইকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত আরও জোরালো করতে হবে, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ভিসিকে রাজনৈতিক ব্যানারে সম্ভাষণকারীদের শাস্তি নিশ্চিতসহ সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ভুয়া বিবৃতি প্রত্যাহার করে সত্য ও সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে, শিক্ষার্থীদের অ্যানোনিমাস মার্কিং ও পরীক্ষার ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে ফেলকৃত বিষয়ের ইমপ্রুভ পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদলের টানানো দুটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় কিছু বহিরাগত এতে যোগ দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে প্রক্টরসহ মোট ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলও সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষের দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এছাড়া বহিষ্কার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি সাহেদুল ইসলাম রোমেনকে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরীফ প্রধান শুভকে দিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, সমস্যা নিরসনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাদের অনেকগুলো দাবি রয়েছে। কিছু দাবির যৌক্তিকতাও আছে। সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে কথা বলবেন। আশা করি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে দেওয়া বিবৃতি ভুল করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।