বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ০০:১৯ এএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ০০:২০ এএম
নাঈমা নির্মা। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম নাঈমা নির্মা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল চিকিৎসককে দায়ী করেছেন সহপাঠীরা। তাদের অভিযোগ—কর্তব্যরত চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে নাঈমার মৃত্যু হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল চিকিৎসকের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক শান্তনু মজুমদার।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নাঈমার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে আনা হয় তাকে। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। নাঈমা পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট এলাকার একটি বাসার দুই তলায় থাকতেন নাঈমা। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বাসার অন্য দুইজনের সহযোগিতায় নাঈমাকে চবি মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে অক্সিজেন দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তনু মজুমদার। তবে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে এক নম্বর গেট এলাকায় গেলে সিলিন্ডারের অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। পরে হাটহাজারী থেকে একটি সিলিন্ডার কিনে পুনরায় চমেক হাসপাতালের উদ্দেশে যান তারা। সেখানে পৌঁছলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসায় অবহেলা ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকার অভিযোগ এনে রাতে সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষোভ করে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। তারা অভিযোগ করেন, অবহেলাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তারা দায়িত্বরত চিকিৎসকের গাফেলতির অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবিসহ ১০ দফা দাবি জানায়। এসব দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও জানায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে চবি মেডিকেল সেন্টার ত্যাগ করে তারা।
চবি মেডিক্যালের চিকিৎসক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘যে দুইজন ওই ছাত্রীকে নিয়ে এসেছিল তারা বাসার মধ্যে অজ্ঞান পেয়েছিল। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ও কোনো রেস্পন্স পায়নি বলে জানিয়েছে। নিয়ে আসার পর করিডর থেকে চেক করে ভেতরে নিয়ে প্রেশারসহ সবকিছু চেক করে কোনো রেস্পন্স পাইনি। তবুও মেডিক্যাল চেকাপের জন্য পাঠানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওনার সঙ্গে যারা ছিল আমি ইনডিরেক্টলি তাদের বলেছি ওনার আব্বা-আম্মাকে খবর দিতে। কারণ, ইসিজি বা নিশ্চিত না হয়ে সরাসরি কিছু বলা যায় না। আমরা তাকে ১০ লিটারের হাই ফ্লো সিলিন্ডারটাই দিয়েছিলাম। এটা ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট চলার কথা।’
চবি মেডিক্যালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, ‘প্রশাসন থেকে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। চিকিৎসকের যদি কোনো গাফিলতি থাকে, অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, ‘শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থী হাঁপানি রোগে ভুগছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি। প্রাথমিকভাবে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে আনে তার সহপাঠীরা। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে পাঠানো হবে। আর শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’