× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বাড়বে ভর্তি প্রতিযোগিতা

সেলিম আহমেদ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৪৪ পিএম

গ্রাফিক্স প্রবা

গ্রাফিক্স প্রবা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত বছরের থেকে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৩ হাজার ৫৪৬ জন। চলতি বছর এইচএসসিতে পাস করেছে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। অথচ দেশের পাবলিক আর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা প্রায় ৫৫ হাজার। সেই হিসাবে জিপিএ-৫ পাওয়া অন্তত ৯০ হাজার শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না। অন্যান্য গ্রেডে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রতিযোগিতায় নামে। তাই গত বছরের থেকে এবার ভর্তিযুদ্ধ আরও কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পাবলিক উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে শতাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ আসন রয়েছে। ফলে সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ লাখ ৬২ হাজারের বেশি আসন ফাঁকা থাকবে। 

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে গত মঙ্গলবার। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কাটছাঁট করা হয়েছিল। বন্যার কারণে সিলেট বোর্ডে তিনটি ও বাকি দশটি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা হয়েছিল ৭টি। বাকি পরীক্ষাগুলো না নিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ম্যাপিং করে দেওয়া হয়েছে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার। এবার গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার কমেছে দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ বছর ৯ হাজার ১৯৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ জন।

সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল দেওয়ায় কপাল পুড়েছে অনেকের

ফল প্রকাশের পর ভালো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজে ভর্তি হওয়াটা শিক্ষার্থীদের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। বেশ কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা না নিয়ে এসএসসির ফলের সঙ্গে ম্যাপিং করে ফল দেওয়ায় প্রত্যাশা পূরণ হয়নি অনেকের। অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, নানা কারণে এসএসসিতে ফল কিছুটা খারাপ হয়েছিল। তারা এইচএসসিতে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে সেই ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল প্রকাশের কারণে তাদের কপাল পুড়েছে। তবে আগামী মাস-দুয়েক পরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শুরু হবে প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অনেকে। 

ইউজিসিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়ার। এবার ৫২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ৫০ হাজার ৩৯৬টি। এর বাইরে সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৪ হাজার ৩৫০টি আর সরকারি ডেন্টাল কলেজে আসন রয়েছে ৫৪৫টি। সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা ৫৫ হাজার ২৯০টি। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অন্তত ৯০ হাজার শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে না। আবার কম জিপিএ নিয়েও অনেকে পাবলিকে চান্স পাবে। সুতরাং পাবলিকে ভর্তিযুদ্ধ অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির মূল লক্ষ্য থাকে শিক্ষার্থীদের। তাই এগুলোতে ভর্তিযুদ্ধ হয় খুবই কঠিন। সর্বশেষ গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজে ভর্তির সুযোগ 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। 

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের বাইরে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ৩৪০টি, প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে ১ হাজার ৩৫০টি, আর্মড ফোর্স মেডিকেল কলেজে ৩৫০টি, ১০৭ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স কোর্সে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৯টি, পাস কোর্সে ১ হাজার ১৬০টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ কলেজে ২৩ হাজার ৬৩০টি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২৬৪ কলেজে অনার্সে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৫টি, পাস কোর্সে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৯০টি, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৬৪ হাজার ৫২৯টি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭ হাজার ৫৯৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০টি, টেক্সটাইল কলেজে ৭২০টি, মেরিন কলেজে ৬৬০টি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৩ হাজার ৭৯০টি, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন বাংলাদেশে ৮০০টি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে ৫ হাজার ৬০০টি আসন রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হালিম বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সংকট সব সময়ই আছে। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় আসন নিশ্চিতের জন্য লড়াই করতে হয়। লড়াই করলে যে সবাই আসন পাবে, তা কিন্তু নয়। এই সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে পাবলিকের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হবে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা