এইচএসসি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৫৬ এএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ১২:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে অর্ধেকের বেশি পরীক্ষা বাতিল করে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে ফল প্রকাশ করা হলেও বেড়েছে শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৫টি; যা গত বছরে ছিল ৪২টি। অর্থাৎ গত বছরের থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ২৩টি। তবে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৪৩৫টি।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ফল প্রকাশের পর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার এ তথ্য জানান।
এবার এইচএসসিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ১৯৭টি, মোট কেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৫টি, শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৩৮৭টি।
গত বছর মোট প্রতিষ্ঠান ছিল ৯ হাজার ১৮৭টি, কেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৫৭টি, শতভাগ পাস করেছে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এতে দেখা যায়, এবার মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১০টি, কেন্দ্র বেড়েছে ৩৮টি।
সাতটি বিষয় ছাড়া বাকি বিষয়গুলোর পরীক্ষা না হলেও এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের থেকে এবার ৫৩ হাজার ৩১৬ জন বেড়েছে। সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল প্রকাশের কারণে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮। গতবার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪। গত বছরের থেকে এবার পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ।
অধ্যাপক তপন কুমার বলেন, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৫.৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭৬ জন। আলিমে পাসের হার ৯৩.৪০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬১৩ জন। এইচএসসি (ভোকেশনাল/বিএস/ডিপ্লোমা ইন কমার্স) পাসের হার ৮৮.০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৯২২ জন।
তিনি বলেন, এ বছর ৯ হাজার ১৯৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন।
তিনি আরও বলেন, অংশগ্রহণকারী ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৩ জন ছাত্রের মধ্যে ৫ লাখ ৩ হাজার ৫৯৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৭৫.৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৯৭৮ জন। ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫ জন ছাত্রীর মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ছাত্রীদের পাসের হার ৭৯.৯৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯৩৩ জন।
এ বছর সব শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী ৪.৩৪ শতাংশ বেশি পাস করেছেন। একই সঙ্গে ১৫ হাজার ৯৫৫ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
২০২৩ সালে জিপিএ-৫ ছিলেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন, ২০২৪ সালে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১।
২০০১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করতেন। তবে এবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তা করছেন না বলে বোর্ডসূত্রে জানা গেছে। স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরাই ফল প্রকাশ করেন।
এবার ১১ বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সাড়ে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শুরু হয় ৩০ জুন। তবে বন্যার কারণে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয় ৯ জুলাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে স্থগিত হওয়ার আগে ছয় থেকে সাতটি পরীক্ষা হয়েছিল। অন্য বিষয়গুলোর লিখিত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল। কয়েক দফা স্থগিত হওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর পরীক্ষাগুলো শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ২০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে বাকি পরীক্ষা বাতিল করে সরকার।