বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:৩৫ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২৫ পিএম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে পাওয়া সম্মাননা স্মারক প্রত্যাখ্যান করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১২ অক্টোবর) বেরোবি প্রশাসনের আমন্ত্রণে ক্যাম্পাসে আসেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক উদ্বোধন, র্যালি শেষে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
এ সভার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায় এবং কলা অনুষদের ডিন ড. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ সময় অভিযোগ ওঠে— বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনবিরোধী শিক্ষককেও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে। এ কথা জানতে পেরে বেরোবি থেকে পাওয়া সম্মাননা স্মারক প্রত্যাখ্যান করেন উপদেষ্টা নাহিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে এক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ তুলে তাদেরকে সম্মাননা স্মারক দেওয়ার বিরোধিতা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী রাইসুল ফারিদ বলেন, ‘‘আপনি বলেছেন প্রথমে আমাদের কাঠামো ভাঙতে হবে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দালালি করেছে, দোসরী করেছে, তাদের সেই কাঠামো এখনও বলবৎ আছে। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এখানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায়) রয়েছেন, যিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এবং সেই পরিষদের সেক্রেটারি ছিলেন মশিউর (আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি)। যে কমিটির সেক্রেটারি ছিল মশিউরের মতো কলঙ্কিত শিক্ষক... আজকে সেই কমিটির সভাপতিকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত কলা অনুষদের ডিন শফিক আশরাফ (ড. শফিকুর রহমান) রয়েছেন, যিনি ১৩ আগস্ট একটি কলাম লিখেছেন; যেখানে একটি লাইনে লিখেছিলেন, ‘আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরও পরিস্থিতি সামলানোর পর্যায়ে ছিল’। আমরা শিক্ষার্থীরা জানতে চাই, আবু সাঈদের প্রাণের বিনিময়েও এখানে কি সামলানোর কথা তিনি বুঝিয়েছেন? এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।’’
এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘আমরা যখন দেখতে পাই যে, আমাদের সামনে যারা স্বৈরাচারী শাসকের দোসরী করেছে তাদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হচ্ছে। আমরা এটা মানতে পারি না।’
এর জবাবে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমি আগে এই বিষয়টি জানতাম না। যেহেতু আপনারা অভিযোগ করলেন এই মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগ এবং স্বৈরাচারের দোসরকে স্মারক সম্মাননা দেওয়া হয়েছে; ফলে একই মঞ্চ থেকে আমাকে যে সম্মাননাটি দেওয়া হয়েছে সেটি আমি গ্রহণ করছি না।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘হয়তো একদিন ফ্যাসিবাদীমুক্ত এই বেরোবিতে আসব এবং আপনাদের সকল দাবি-দাওয়া পূরণের সক্ষমতা নিয়ে দাঁড়াব। সেদিনই হয় তো প্রকৃত সম্মাননা গ্রহণ করব।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার কলামের শিরোনাম ছিল- আবু সাঈদ যখন রাজনীতিবিদদের শিক্ষক। তারপর শুধুমাত্র একটি লাইন ধরে আঙুল তোলা হচ্ছে। আমি ওনার (নাহিদ ইসলাম) সঙ্গে আমাকে দেওয়া সম্মাননা স্মারক সবার প্রতি সম্মান জানিয়ে সারেন্ডার করছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা হবে। এজন্য একটু সময় প্রয়োজন।’