× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

২৩ মামলা পরিচালনায় ২২ জন

সেলিম আহমেদ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:২৭ পিএম

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:২৮ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দেশের রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তদারকি এবং পিছিয়ে পড়া শিশুদের স্কুলমুখী করতে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট’। কিন্তু ২০১৩ সালে সব বিদ্যালয়ই জাতীয়করণ করা হলে এ কাজগুলোও চলে যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বে। ইউনিটটির আওতায় থাকে কেবল জাতীয়করণের আওতাভুক্ত হতে না পারা শিক্ষকদের মামলা পরিচালনা করা। বর্তমানে এই মামলার সংখ্যা মাত্র ২৩টি। এই কাজের বিপরীতে ইউনিটটিতে রয়েছেন ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। মামলা পরিচালনা ছাড়া বড় ধরনের আর কোনো কাজ না থাকায় গত ১১ বছর ধরে তারা বলতে গেলে কর্মহীন সময় কাটাচ্ছেন। যদিও তাদের পেছনে সরকারের বছরে ব্যয় হচ্ছে ৫ কোটি টাকার বেশি। 

প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইউনিটটির কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়গুলো পরিচালনা কিংবা অন্য কোনো কাজ দেওয়ার অনুরোধ করে আসছেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় কোনো কাজ দেওয়া দূরে থাক, গত ২০২২ সালে এ ইউনিটকে বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেয়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আপত্তির মুখে সে উদ্যোগ নাকচ হয়ে যায়। সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ইউনিটি থেকে দায়িত্ব চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বলছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো তদারকির জন্য ই-মনিটরিং সেল বা ইউনিট চালু করার প্রস্তাবনা রয়েছে। এই সেলটির সঙ্গে এ ইউনিটটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একীভূত করা হতে পারে। 

যেসব নতুন দায়িত্ব পেতে পারে ইউনিট 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কর্মহীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তর ও উইংগুলোর তালিকা চায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. ফাহিম ইকবাল জাগীরদার এক চিঠিতে, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ এবং এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রমের প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, পরিবীক্ষণ ইউনিটটিকে ৫টি দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। যেমনÑ প্রথমত. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম) একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমের তদারকি করা। প্রসঙ্গত, এসব বিদ্যালয়ে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সের প্রায় ৬৬ লাখ শিশু লেখাপড়া করলেও কোনো তদারকি হয় না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এত শিক্ষার্থীর একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা দুরূহ। বেসরকারি প্রাথমিক (বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১১ সংশোধন করে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ হিসেবে এ ইউনিটকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। 

দ্বিতীয়ত. সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি প্রদান-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার দায়িত্বও এ ইউনিটকে দেওয়া যেতে পারে।

তৃতীয়ত. প্রাথমিক শিক্ষা জরিপের দায়িত্বও পেতে পারে এই ইউনিটটি। তারা বলছে, এ ইউনিটের নির্ধারিত কাজ হিসেবে প্রতি দুই বছর পর শিশু জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে ব্যানবেইসের আদলে সব সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিদ্যালয়ের (১ম-৫ম শ্রেণি) ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকের সংখ্যা, প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপ্তির হার, ঝরে পড়ার হার, পুনরায় ভর্তি ইত্যাদি তথ্য ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার বার্ষিক প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব। 

চতুর্থত. মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা, ঝরে পড়া রোধ এবং বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুদের শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের জন্যও ইউনিটের কর্মকর্তাদের পরিদর্শন কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। 

পঞ্চমত. দেশের নির্বাচিত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় মিড-ডে-মিল কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি তদারকির দায়িত্বও ইউনিটটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া যেতে পারে। 

ইউনিটের অতীত কার্যক্রম

১৯৯০ সালে সংসদে পাস হয় ‘বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন’। এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ওই বছরের ২১ আগস্ট ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ সেল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে ১৯৯২ সালের ৩১ নভেম্বর এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট’। এ আইনের অধীনে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়।

এই ইউনিটের মূল কাজ ছিল বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও দেখভাল করা এবং এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমপিও (বেতনের সরকারি অংশ) প্রদান করা। এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছরের সব শিশুকে স্কুলমুখী করতে ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত স্থানীয়দের নিয়ে করা হতো সচেতনতামূলক কমিটি। দুই বছর পরপর করা হতো ‘চাইল্ড সার্ভে’ বা ‘শিশু জরিপ’। 

সরেজমিন : ইউনিট কার্যালয়

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর আবদুল গণি রোডে ছয়তলা শিক্ষা ভবনের পঞ্চম তলায় ফ্লোরজুড়ে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ ইউনিটের কার্যালয়ের অবস্থান। সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ ইউনিটের প্রধান হলেন মহাপরিচালক। দীর্ঘদিন ধরে এ পদ শূন্য। মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ পদে কাজ করে থাকেন। বর্তমানে এ দপ্তরে ৪ জন কর্মকর্তা আর ১৮ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। 

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেসব রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি, তারা উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন। এ রকম ২২টি মামলা পরিচালনা আর সরকারি বিভিন্ন দিবস উদযাপন ও মাঝেমধ্যে বিশেষ দায়িত্ব পালন ছাড়া আর কোনো কাজ নেই দপ্তরটির। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ বছর হলো আমাদের তেমন কোনো কাজ নেই। অথচ কাজ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে অনেকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু অনেক অভিজ্ঞাতা থাকার পরও আমাদের কোনো কাজে লাগানো হচ্ছে না। শুধু তা-ই নয়, এই প্রতিষ্ঠানে আমাদের কোনো পদোন্নতি নেই। বদলির সুযোগও নেই।’

আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিএনপির আমলে এ দপ্তর প্রতিষ্ঠা হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রণালয় আমাদের ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেছে। দক্ষ জনবল হওয়ার পরও আমাদের কাজে লাগানো হচ্ছে না।’ 

‘প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ই-মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এতে আপনারা সন্তুষ্ট কি?Ñ এমন প্রশ্নের উত্তরে দপ্তরটির অনেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কাজ চাই। তা যেমনই হোক না কেন। তবে মনিটরিংয়ে খুব একটা কাজ নেই। বরং আমাদের কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় পরিচালনা কিংবা মিড মিল সমন্বয়সহ অন্যান্য দায়িত্ব দেওয়া যায়। কারণ জনবলের অভাবে মন্ত্রণালয় এগুলোর দেখভাল করতে পারে না। 

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ কথা সত্য যে, এ দপ্তরে আপাতত তেমন কাজ নেই। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে মনিটরিং করার জন্য একটা ই-মনিটরিং ইউনিট করার কাজ চলছে। এই ইউনিটি করা হলে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের জনবলকে সেখানে মার্জ করে দেওয়ার প্রস্তাবনা রয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা