বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পরিবহন মার্কেট সংলগ্ন ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে খাবারের দোকান। প্রবা ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পরিবহন মার্কেট সংলগ্ন ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে খাবারের দোকান দিয়েছে শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় এবং লাইব্ররির পাশে হওয়ায় দোকান সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫-২০ দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে ‘ইরানি হালিম বাজার’ নামে একটি দোকান বসান কয়েকজন। দোকান পরিচালকের সঙ্গে কথা বললে তিনি আরেকজন ব্যক্তিকে দোকান মালিক সম্ভোধন করে দেখিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। তার নাম মো. ফয়জুল ইসলাম অমি।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, তিনি ছাত্রদলের একজন কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাকিলুর রহমান সাহাগের অনুসারী হিসেবে তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিত।
ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে ছাত্রদল কর্মীর দোকান বসানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লহ-হিল-গালিব। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টের সামনে রাবি ছাত্রদলের একজন হালিমের দোকান বসিয়েছে। একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনর অনুমতি সাপেক্ষে নির্ধারিত স্থানে উদ্যাক্তা হিসেবে ব্যবসা করত পারে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের দলীয় টেন্টে এভাবে দোকান খুলে বসা কখনোই ভালো কাজ হতে পারেনা। তারা ছাত্রলীগকে হেয় করার জন্যই মূলত ওইখানে দোকানটি বসিয়ছে। আমি এর তীব্র নিদা জানাই।’
দোকান বসানোর বিষয়ে ছাত্রদল কর্মী ফয়জুল ইসলাম অমি বলন, ‘প্রক্টর দপ্তরের সেকশন অফিসারের সঙ্গে কথা বলে আমরা দোকান বসিয়েছিলাম। পরে প্রক্টর স্যার আমাকে বলেছেন এটা লাইব্ররির অংশ। এখান থেকে দোকান সরিয়ে নিত হবে। পূজার ছুটির মধ্যে আমরা দোকান সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ছি।’
এ বিষয়ে প্রক্টর দপ্তরের সেকশন অফিসার আশিকুর রহমান বলেন, ‘তারা অনুমতি ফরম নিয়ে প্রক্টর অফিসে এসেছিল। আমরা বলেছি এটা সম্পূর্ণ স্টেট দপ্তরের বিষয়। প্রক্টর অফিস এ বিষয়ে অনুমতি দিতে পারে না।’
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী নিজ উদ্যোগে খাবারের দোকান দেবে এতে অনুমতি নেওয়ার নেওয়ার কি আছে! আমি যতটুকু জানি এটা দলীয় টেন্টে না, রাস্তার পাশে। তবে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় টেন্টে হয়ে থাকে তবে সেটা সরিয়ে নেওয়া উচিৎ।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলন, ‘দোকান বসানোর জন্য প্রশাসনের অনুমতির বিষয়টি আমি জানি না। কোনো কোনো শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর উদ্দশে নিজে উদ্যোক্তা হয়ে হালাল পথে উর্পাজন করে। এই বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এই দাকানের বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে আলাচনা করে ঠিক করা হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়র প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান বলন, ‘ওদের সঙ্গে আমার কয়েকদিন আগে কথা হয়েছে। শীঘ্রই এখান থেকে দোকান তুলে নেবে বলে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’