বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০০:১৩ এএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:২৮ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ হল শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ নাফিসা হল রাখার দাবি তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে সমাজমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে তারা একে একে দাবি তুলেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছর নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭) টঙ্গীর শাহাজ উদ্দিন সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন। এরই মধ্যে শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। নাফিসা রাজধানীর উত্তরায় আন্দোলনে যোগ দেন। বাবা বিষয়টি জানতে পেরে নাফিসাকে নিষেধ করলেও চালিয়ে যান আন্দোলন। ১ আগস্ট নাফিসা চলে যান সাভারের বক্তারপুরের মামার বাড়িতে। সেখান থেকে ফের যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। ৫ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শহীদ হন নাফিসা হোসেন মারওয়া।
শিক্ষার্থীরা জানান, স্বৈরাচার পতনের পরই আমরা শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম। প্রথম দিকে শিক্ষার্থীদের একাংশ শেখ হাসিনা হলের নাম ইলা মিত্র হল দিতে চেয়েছিলেন। এর প্রধান কারণ তারা দেখিয়েছিলেন দেশে কোনো সাহসী বীর নারী শহীদ নেই। কিন্তু নাফিসা হোসেন মারওয়া শুধু দেশের নন, সাভারের এবং আমাদেরই একজন সাহসী বীর শহীদ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি শহীদ হন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এ স্পিরিট ধরে রাখতে শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ নাফিসা হল রাখতে হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগে ভিসি স্যারের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানে ভিসি স্যারকে আমি শেখ হাসিনা হলের নাম পাল্টে শহীদ নাফিসার নামে নামকরণের ব্যাপারে সিন্ডিকেটে প্রস্তাব উত্থাপনের কথা বলি। তখন সবাই টেবিল চাপড়ে বাহবা দিলেও মিটিং শেষে সবাই আবার নাফিসাকে ভুলে যায়।’
এ বিষয়ে শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘আমরা খুনি, সন্ত্রাসী-হামলাকারীর নামে কোনো হল চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের নারী শহীদের নামে নামকরণ করে।’
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের ওপর যেভাবে অত্যাচার ও হামলা চালিয়েছে, তাতে অবশ্যই শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তবে যেহেতু শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনে জয়লাভ করেছে তাই তাদের মতামতের ভিত্তিতে নারী শহীদদের নামে করা যেতে পারে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আজিজুর রহমান বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কথা উঠেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা দেয়নি।’