বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:০৭ পিএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৪০ পিএম
সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় আক্রান্ত হওয়া আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ আদিবাসীদের ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সমতলের আদিবাসী ছাত্র-যুব ও সাধারণ জনগণ। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই সমাবেশ করেন তারা। এ সময় ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
সমাবেশ শেষে আদিবাসীরা মিছিল নিয়ে টিএসসি থেকে শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে টিএসসিতে আবার এসে শেষ করে। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে আদিবাসীদের সব সমস্যার সমাধান না হলে আগামীতে পাহাড় এবং সমতলের দেশের সব জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের ক্রীড়া শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক উজ্জ্বল আজিমের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সহসভাপতি টনি চিরানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক ডা. গজেন্দ্রনাথ মাহাতো, আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক হিরণ মিত্র চাকমা, সংগীত শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দিপ্তি দত্ত, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি আন্তনী রেমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলিক মৃ, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল চাকমা, গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রতিনিধি জানকি চিসিম প্রমুখ।
সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের অর্থ সম্পাদক অনন্যা দ্রং। তিনি ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো- আক্রান্ত আদিবাসীসহ পার্বত্য তিন জেলায় আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। নিহতদেত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। সব আদিবাসী নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আগামী ৬ মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া৷
সমাবেশে বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি আন্তনি রেমা বলেন, গত ১৯ এবং ২০ সেপ্টেম্বরে পাহাড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাহাড়িরা বাঙালিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। এরপরও গত ৫০ বছরে অনেক পাহাড়ি ভূমি হারিয়েছে। অনেক আদিবাসী নারী সম্ভ্রম হারিয়েছে। ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তির পরও আদিবাসীরা নিপীড়িত। শান্তিচুক্তির ২৬ বছর পরও পাহাড়ে শান্তি মিলেনি। আদিবাসীদের বাদ দিয়ে বৈষম্য হীন বাংলাদেশ রচনা সম্ভব না। দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতাকে আদিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান আন্তোনি রেমা।
গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন লিয়াঙ রিচিল পাহাড় থেকে সেনাশাসন প্রত্যাহারের আহ্বান করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ দশক পেরিয়ে এসেও আদিবাসীরা এখনও তাদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য দাবিসমূহ উপস্থাপন করে আসছে কিন্তু এমনাবস্থাতেও দেশের সব স্থানে আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় পাহাড়ে এবং সমতলে আদিবাসীদের ওপর জোর জুলুম, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। পাহাড়ের আদিবাসীদের নানাভাবে অধিকার বঞ্চিত করে ক্রমাগত প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সেটেলার বাঙালি কর্তৃক সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনা তারই ধারবাহিকতা।
আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং আদিবাসী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল সে আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশের সব মানুষকে যুক্ত করতে হবে। দেশের আদিবাসীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষকে বাদ দিয়ে এবং দেশের আদিবাসীদের ওপর বৈষম্য চলমান রেখে নতুন বাংলাদেশ সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসী বাঙালি একত্রে কাঁধে কাঁধ রেখে অংশগ্রহণ করেছিল। আজকে আদিবাসীদের ওপর চলমান যে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে এবং দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়-সমতলের আদিবাসীদের ওপর যে বৈষম্য চলে আসছে তার বিরুদ্ধে আদিবাসী বাঙালিসহ মানবিক বোধসম্পন্ন সব মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।