বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৩০ এএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৪২ এএম
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। পাশাপাশি কমছে পাঠের মান। এ ছাড়াও প্রতি বছর বেশকিছু শিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে সময়মতো দেশে ফিরে না আসায় এই সংকট আরও বাড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, বুটেক্সে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষক থাকার কথা ৩০০ জন। সেখানে বুটেক্সে স্থায়ী শিক্ষকের সংখ্যা ১৫৪ জন। ৪৬ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ পর্যন্ত কয়েকটি বিভাগ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ৪০ জন শিক্ষক দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্য অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অনেকের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মেয়াদ শেষ হলেও তারা দেশে ফিরে আসছেন না। এজন্য যাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও দেশে ফিরে আসছেন না তাদের প্রত্যাবর্তনের নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং অনেকের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকের এই সংকটের কারণে বিভিন্ন বিভাগের নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বছরের অধিকাংশ সময় শিক্ষকের এমন সংকট থাকে। এতে বিভাগীয় বিষয়গুলোর জন্য প্রতিনিয়ত খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ করতে হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুপাত সঠিক না থাকায় শিক্ষার মান হুমকির মুখে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমানে বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক আছেন ৪ জন। শিক্ষকের অভাবে ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। বিভাগটির ১১ জন শিক্ষক ছিলেন তার মধ্যে ৭ জন উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গমন করেছেন।
টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেনটেনেন্স বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে বিভাগীয় বিষয়গুলোর নিয়মিত ক্লাস হয় না। সেমিস্টার শেষে পড়াশোনার বেশি চাপ পড়ে। এ বিভাগ থেকে ৫ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাবেরী মজুমদার বলেন, শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন স্থায়ী শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আশা করছি। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গমনকারী যেসব শিক্ষক নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও দেশে ফিরে আসছেন না তাদের প্রশাসনিক নিয়ম মেনে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকের বেতন বন্ধ করা হয়েছে।