উপাচার্য নিয়োগের দাবি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫০ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবন, প্রক্টর অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক জিরো পয়েন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নাম্বার গেইটে তালা দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে কমপ্লিট শাটডাউনের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটা নাগাদ এই সমস্ত জায়গায় তালা দেয় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে ‘ভিসি নিয়ে নয়ছয় আর নয় আর নয়’, ‘ঢাবি রাবি ভিসি পেল, চবি কেন পিছিয়ে গেল’, ‘আর নয় বিজ্ঞাপন, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘ঢাবি যখন ভিসি পায়, চবি কেন পিছিয়ে যায়’, ‘বৈষম্য মানি না, মানব না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরাফাত উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের থাকার কথা ছিল ক্লাসে। কিন্তু আজকে আমরা বাধ্য হয়েছি এই শহীদ মিনারে দাঁড়াতে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। একটি কুচক্রী মহল আমাদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমাদেরকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। আমাদেরকে নিয়ে যদি আর কোনো ষড়যন্ত্র করা হয় আমরা এর জবাব দেব। আমরা শহীদ তরুয়া ও ফরহাদের উত্তরসূরী। আমরা অতি দ্রুত আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে আমরা কঠিন আন্দোলনে যাব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়ব আহমেদ সিয়াম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করার পরেও কোনো সমাধান পাইনি। তাই আজ থেকে আমরা কমপ্লিট শাটডাউনে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, প্রক্টর অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক জিরো পয়েন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নাম্বার গেইটে ইতোমধ্যেই তালা দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য এসেই এই তালা খুলবেন। এর আগ পর্যন্ত সবকিছু বন্ধ থাকবে।’
এর আগে চট্টগ্রাম উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ২ দিনের আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়ায় গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার মূল ফটক অবরোধ করে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।
এরও আগে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে ১০, ১১ এবং ১২ আগস্ট পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু তাহের, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক বেনু কুমার দে, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সেকান্দর চৌধুরী, প্রক্টরিয়াল বডি ও হলের প্রভোস্টরা। এরপর থেকে প্রশাসনিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।