বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:৪১ পিএম
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:৩৪ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত
সহজে ও দ্রুত সময়ে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, ফরম পূরণ, সনদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে গত ২৯ মে এ অটোমেশন পদ্ধতির উদ্বোধন করেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ পদ্ধতিতে ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করার কথা থাকলেও কোনো কোনো বিভাগের পরীক্ষার ছয় মাস পার হলেও তারা এখনও ফলাফল পাননি।
জানা গেছে, অটোমেশন প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি, ফরম পূরণ, ট্যাবুলেশন, ফল প্রকাশ এবং সনদ উত্তোলন অটোমেশন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের (সাত দিন) মধ্যে খাতা দেখতে হবে। পাশাপাশি দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বর জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্যানেলের নম্বর জমাদানের অপশনটি ব্লক হয়ে যাবে।
শিক্ষকরা বলছেন, এ পদ্ধতিটি নতুন হওয়ায় একটু সময় লাগছে। এ ছাড়া মাঝখানে প্রায় দুই মাসের একটা বিপ্লবের কারণে সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, অনলাইন প্রক্রিয়া হওয়ায় সময় লেগেছে। অনেক বিভাগের পরীক্ষাও দেরিতে হয়েছে। তা ছাড়া মাঝখানে বন্ধ থাকায় হয়তো একটু বেশি সময় লেগেছে।
উদ্বোধনের দিন অটোমেশনের মাধ্যমে প্রস্তুত করা ১০টি বিভাগের ফলাফলের মধ্যে একটি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম রাজু বলেন, আমাদের পরীক্ষার শেষ হয়েছে সাত মাস হতে চলল, এখনও ফলাফল পাইনি। এদিকে আরেক সেমিস্টারের পরীক্ষা সামনে। আগের ফলাফল না জানার কারণে পরবর্তী সেমিস্টারের প্রস্তুতিও নিতে পারছি না। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের মার্কশিটের প্রয়োজন হচ্ছে।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী সাগর ইসলাম বলেন, ফলাফল না পাওয়ায় একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। কোনো কারণে যদি একটা-দুইটা কোর্সে মানোন্নয়নের প্রয়োজন পড়ে তখন আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। তাই আমি মনে করি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব ফলাফল প্রকাশ করা দরকার।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রধান অধ্যাপক হাসনাত কবির বলেন, ইতোমধ্যে ২৮টি বিভাগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আরও পর্যায়ক্রমে করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াটা সবার কাছে নতুন হওয়ায় ফলাফল প্রস্তুত থেকে প্রকাশ পর্যন্ত একটু সময় লাগছে। তবে আশা করি আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি বিভাগগুলোর ফলাফলও দিয়ে দিতে পারব।