দ্বিতীয় দিনের শাটডাউন
নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:১৫ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫৩ পিএম
নোয়াখালীর আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
নোয়াখালীর আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সৈয়দ জাকির হোসেনসহ চার শিক্ষক পদত্যাগের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউনের দ্বিতীয় দিনে অচলাবস্থা বিরাজ করছে ক্যাস্পাসে।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে আন্দোলনকারীদের শ্লোগানে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস।
এসময় তাদের মুখে শোনা যায়, ‘এক দুই তিন চার, প্রিন্সিপাল স্বৈরাচার’, ‘এক দুই তিন চার, প্রশাসন স্বৈরাচার’, ‘পাশ ফেলের ভয় দেখিয়ে, কয়দিন রাখবি চুপ করিয়ে’, ‘নোমেকের সংস্কার, এই মূহুর্তে দরকার’ প্রভৃতি স্লোগান।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক, অধ্যক্ষের কক্ষ, শিক্ষকদের কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলছে। কমপ্লিট শাটডাউনে অচল নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ। অন্যদিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্লোগান দিচ্ছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ জাকির হোসাইন, উপাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন ও সার্জারি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ কামরুল হোসাইনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচিসহ ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তারা। কালক্ষেপণ হলেও প্রশাসন নিশ্চুপ থাকায় শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও অধ্যক্ষসহ চার শিক্ষককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। ফলে অচল অবস্থা বিরাজ করছে মেডিকেল কলেজটিতে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আনাস বিন ইকবাল বলেন, স্বৈরাচারের দোসররা পদত্যাগ না করে আমাদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আমরা চাই সম্মানের সাথে তারা পদত্যাগ করে চলে যাক। এই ক্যাম্পাসে তাদের ঠাঁই হবেনা।
কেফায়েত উল্যাহ নামের আরেক আন্দোলনকারী বলেন, কতটা নির্লজ্জ হলে তারা এখনো পদত্যাগ না করে বসে আছে। বিপরীতে আমাদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করছে। আমাদের এখানে রাজনৈতিক পরিচয় নাই সবাই আমরা সাধারণ ছাত্র। সাধারণ ছাত্রদের বিপক্ষে যারা কথা বলবে তারা সবাই স্বৈরাচার।
লুৎফর রহমান আরাফাত নামের আরেক আন্দোলনকারী বলেন, আমাদের একটাই দাবি, খুনি ও স্বৈরাচার হাসিনার দোসর অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক সৈয়দ ডা. কামরুল হোসাইন ও ডা. রিয়াজকে অপসারণ করতে হবে। আমরা ক্লাসে ফিরে যেতে চাই। তাই আমাদের দাবি মেনে নিক। তারপর সব সহজ হবে। নাহয় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন হবে। তাদের পদত্যাগ না করিয়ে আমরা ফেরত যাব না।
এদিকে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ জাকির হোসাইনকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সার্জারি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ কামরুল হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে আমার কি দোষ তা আমি জানিনা। একমাত্র তারাই বলতে পারবে। তবে আমার কাছে আমার ছাত্ররা সবসময় সমান অধিকার পেয়ে এসেছে। আমি সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম।