সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৪২ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০০:৫৮ এএম
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি : আলী হোসেন মিন্টু
১৫ বছর বয়সি ফেলানী খাতুনকে হত্যা করা হয় ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে আর ১৪ বছর বয়সি স্বর্ণা দাসকে হত্যা করা হয় সেই ঘটনার ১৩ বছরের বেশি সময় পর ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে। দিন যতই যাচ্ছে সীমান্তে বিএসএফের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও ভারতীয় আগ্রাসন ততই বাড়ছে। ভারতের এই আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়ে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফোরাম। বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে প্রতিবাদী মিছিলও করে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে ১ সেপ্টেম্বর রাতে সীমান্তে স্বর্ণা দাসকে হত্যা করার ঘটনায় প্রতিবাদ জানান তারা।
মানববন্ধনে তারা নানা প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন এবং ফেলানী খাতুন, স্বর্ণা দাসসহ সীমান্তে সংঘটিত সকল হত্যার বিচার দাবি করেন। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর হয়ে আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।
এ সময় ‘ফেলানী থেকে স্বর্ণা দাস, আমরা নই দিল্লির দাস’, তুমি কে আমি কে? ফেলানী-স্বর্ণা দাস’ বিভিন্ন লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। বিক্ষোভ মিছিলেও তারা সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ জানান। মিছিলে তারা, ‘ফেলানী থেকে স্বর্ণা সীমান্তে খুন আর না’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি ভারতে কী করে?’, ‘হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই, মবক্রেসির ঠাঁই নাই’, ‘স্বর্ণা, আবরার, ফেলানী, কেউ তোমাদের ভোলেনি’, ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়ো, সীমান্তে খুন বন্ধ করো’, ‘খুনি ভারতের নদীর ফাঁদ, বাংলাদেশের মরণফাঁদ’, ‘রক্তে বর্ডার ভাইসা যায়, খুনি কেন ইন্ডিয়ায়’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বক্তারা সাম্রাজ্যবাদী ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দিল্লি ও ঢাকার জনতাকে একত্রে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘ভারতীয় জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের কোনো বিরোধ নেই, তাদের বিরোধ ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতি।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফোরামের অন্যতম সংগঠক তুহিন খান বলেন, ‘গত দেড় দশকের নিপীড়নের পর নতুন স্বপ্ন দেখানো দেশের স্বাধীনতা যাতে সর্বস্তরের মানুষের হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বর্ডারে যত না খুন হয়েছে তার চেয়ে বেশি খুন হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডারে।’ বক্তব্যে শহীদ আবরারের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
তুহিন খান ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি আহ্বান রাখেন, তারা যেন খুনি হাসিনাকে তাদের ট্যাক্সের টাকায় না পোষে। এ ছাড়া তিনি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সমতাভিত্তিক টেকসই পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের দাবি উত্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সার্ক যাতে আবার সক্রিয় হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতীয় বইপত্র, টিভি চ্যানেল ইত্যাদি সাংস্কৃতিক মাধ্যমের আধিপত্য থাকলেও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলো ভারতে তেমন সুলভ নয়।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙে প্রতিবেশীর মতো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। ভারত সরকার যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে নাক না গলায়, তারা যেন তাদের দেশের আন্দোলন সামলায়। বাংলাদেশ আর ভারতীয় আধিপত্য মানবে না।’