রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৩৯ এএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:০০ পিএম
প্রায় দেড় মাস ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক, একাডেমিকসহ সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশের পটপরিবর্তনের পর উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের অন্তত ৭৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এরপর থেকেই প্রশাসনিক শূন্যতা বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
৫ আগস্ট সরকার পতনের কয়েকদিন পর থেকেই শিক্ষার্থীরা হলে ফিরতে শুরু করেন। কিন্তু ক্লাস-পরীক্ষা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গত ১৮ আগস্ট খুলে দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সর্বশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আচার্য ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা পাওয়ার পর শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এরপর থেকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, প্রক্টোরিয়াল বডি, প্রায় ১০ জন প্রাধ্যক্ষসহ একের পর এক কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন। ফলে প্রায় এক মাস ধরে ক্যাম্পাস একরকম অরক্ষিত অবস্থায় আছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্লাস শুরুর নির্দেশনা এলেও কর্তৃপক্ষ না থাকায় সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য দপ্তর, জনসংযোগ দপ্তর, প্রক্টর দপ্তরসহ সব ক’টি অফিস খোলা আছে কিন্তু শীর্ষ কর্মকর্তারা পদত্যাগ করায় কাজ স্থবির হয়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯টি বিভাগের মধ্যে কয়েকটি বিভাগ নিজ উদ্যোগে ক্লাস শুরু করলেও অধিকাংশ বিভাগেই ক্লাস শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, আমরা বিভাগীয় সিদ্ধান্তের পর গতকাল থেকে বিভাগের পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছি। শিগগিরই ক্লাসও শুরুর প্রস্তুতি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যসহ প্রশাসনিক বডি জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাডেমিক পড়াশোনা, চাকরির পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন না থাকায় একরকম অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মাদ মাহমুদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের চাওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্লাস শুরু করেছি। তবে শিক্ষার্থীদের বলেছি হলে, ক্যাম্পাসে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা নিশ্চিত করে থাকতে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এলে ফরম পূরণসহ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ফিরতে পারছে না। হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন নিরাপত্তা শঙ্কায়। প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। ফলে হলগুলোতে দেখা দিয়েছে শৃঙ্খলার সংকট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক তারিকুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান প্রামাণিক পদত্যাগ করেননি। তবে তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা সাড়া দেননি।