প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৪১ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:৪৬ পিএম
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আলমগীরের অপসারণ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। প্রবা ফটো
ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাকে সব কার্যক্রম থেকে অপসারণ ও বিচারের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী সমাজ।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. সাব্বির মোস্তফা খান।
তিনি বলেন, কুয়েটের তৎকালীন ভিসি ড. নওশের আলী মোড়লকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় ভিসির বাসভবনের সামনে অসম্মান ও অপমানজনক মাইকিংসহ নানাভাবে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন ড. আলমগীর। এরপর তিনি রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে আট বছর কুয়েটের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্ব পালনকালে কুয়েটের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসকে নোংরা রাজনীতি ও সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়। তার দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি কুয়েটে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিতে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, তার পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগ কুয়েট ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হলের সিট বাণিজ্য, ডাইনিং হলের খাবার বাণিজ্য, টর্চার সেল গঠন, র্যাগিং, টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য, সাধারণ ছাত্র, এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের বহিরাগত ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন ও মারধর, তার ইন্ধনে ছাত্র কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে দুজন শিক্ষকের মৃত্যু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতা ও আন্দোলন দমনের চক্রান্ত ইত্যাদি অপকর্মের সঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
কুয়েটের পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান আলমগীর। ইউজিসির সদস্য হিসেবেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ, পদোন্নতি, তদারকি, পরিদর্শন, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা, পরীক্ষার ফলাফলের স্বচ্ছতাবিধান, সার্টিফিকেট ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা অনাকাঙ্ক্ষিত। অনতিবিলম্বে অপরাজনীতির প্রবর্তক, স্বেচ্ছাচারী, দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচারের দোসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও ইউজিসির সম্মান রক্ষার্থে ইউজিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, সদস্যপদ এবং কুয়েটের শিক্ষক পদসহ সব কার্যক্রম থেকে অপসারণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী প্রকৌশলী মোতাহার হোসাইন, চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী তানবিরুল হাসান তমাল, ডুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী কে এম আসাদুজ্জামান চুন্নু, বুয়েটের আহসান রাসেল প্রমুখ।