বাসমাশিসর সভায় শিক্ষকরা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ২১:৪১ পিএম
শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে বাসমাশিস আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষকরা। প্রবা ফটো
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে না নিয়েই নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে। যা পড়াতে গিয়ে বিব্রত হচ্ছে শিক্ষকরা। সব মিলিয়ে নতুন কারিকুলাম শিক্ষকদের জন্য উদ্বেগের বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আয়োজিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন সভায় শিক্ষকরা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির (বাসমাশিস) সাবেক মহাসচিব এমারত হোসেন মিয়া।
সভায় হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহকে আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ও মো. সিকান্দার আলী খানকে সদস্য সচিব করে ১১৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আর্কষণ করে এক শিক্ষক নেতা বলেন, সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষকরা এমনিতেই বৈষম্যের শিকার। তাদের পদোন্নতি হয় না। শিক্ষকরা সরকারি অফিসে গেলে দয়া করে একটু সম্মান দেবেন। অনেক অফিসে গেলে শিক্ষকদের বসতেও দেওয়া হয় না। আর শিক্ষকরা বেতন স্কেলের কোন গ্রেডে আছেন। তাদের কেন পদোন্নতি হয় না?- এগুলো দেখবেন।
এমারত হোসেন মিয়া বলেন, ছাত্রদের রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে এতে শিক্ষকরাও তাদের সম্মান ফিরে পাবেন। শিক্ষাব্যবস্থায় সুন্দর কাজ ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, নতুন কারিকুলাম শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র। এটি মোকাবেলায় মাধ্যমিক শিক্ষকরা সব সময় সচেষ্ট ছিলেন, এখনও আছেন। এটি পরিবর্তিত না হলে এ জাতি পঙ্গু জাতিতে রূপান্তরিত হবে।
মোহাম্মদ রুহুল্লাহ নামে এক শিক্ষক বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের যেসব বৈষম্য আছে এখন তা নিয়ে কাজ করার উপযুক্ত সময়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
নতুন কারিকুলাম উদ্বেগের বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, নতুনভাবে তৈরী করা কারিকুলাম বড় উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষকরা বড় অংশীজন হওয়া স্বত্বেও তাদের বাদ দিয়ে এ কারিকুলাম তৈরী করা হয়েছে। নতুন কারিকুলাম পড়াতে গিয়ে আমাদের বিব্রতও হতে হচ্ছে। কারিকুলামে এমন কিছু বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে যার ফলে জাতি হতাশ হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা মাঝপথে এসে বন্ধ হয়ে গেল- এর ভবিষ্যৎ কি? এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজিমপুর গার্লস স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক আজাদ রহমান বলেন, যখন এ কারিকুলাম আসল তখন বড় অভিযোগ এলো শিক্ষকরা কিছু জানেন না। অথচ কারিকুলাম তৈরির সময় শিক্ষকদেরই ডাকা হয়নি।