প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪ ১৬:১৮ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪ ১৬:৫৬ পিএম
চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত দপ্তরিরা। প্রবা ফটো
চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবি নিয়ে সচিবালয় ঘেরাও করে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত দপ্তরিরা। আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন সারা দেশ থেকে আসা দপ্তরিরা।
রবিবার (২৫ আগস্ট) সকালে প্রথমে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন শুরু করলেও দুপুর ১২টা থেকে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এসে অবস্থান নেন তারা।
আন্দোলনের কারণে এই সময় সচিবালয়ের ফটক দিয়ে কোনো ধরনের গাড়ি ঢুকতে ও বের হতে দেখা যায়নি। পাহারারত অবস্থায় সেনাসদস্যদের সচিবালয়ের গেটের সামনে তিনটি গাড়িসহ অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
সচিবালয়ের সামনে সরজমিনে এসে দেখা গেছে, সারা দেশ থেকে আসা দপ্তরিরা সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয়ে দাবি আদায়ের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তারা ‘দপ্তরিদের চাওয়া জাতীয়করণ হওয়া’, ‘আমাদের দাবি, আমাদের দাবি, মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘এক দফা এক দাবি মানতে হবে মেনে নাও’, ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁয় নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
আন্দোলনে অংশ নিতে মোহাম্মদ জাকির হোসেন ২৪ আগস্ট শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকায় এসেছেন। তিনি সচিবালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই। আমাদের চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে।’
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা থেকে তিনিসহ প্রায় ৫০ জনের মতো দপ্তরি এই আন্দোলনে যুক্ত হতে গত ২৪ তারিখ ঢাকায় আসেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১১ বছর ধরেই আমরা রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।’
নীলফামারী সদর কচুকাটা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা ২৪ ঘণ্টা দপ্তরি কাজের দায়িত্ব পালন করার পরেও মাত্র ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা বেতন দেওয়া হয়। একই পদে থেকে দুই রকম বেতনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছি আমরা। আমাদের কোন প্রকার ছুটি নাই। ঈদের দিনেও আমাদেরকে অফিস করতে হয়। এমনকি পরিবারের কেউ মারা গেলেও সেই দিনেও ছুটি পাওয়া যায় না।’
মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলা থেকে আগত সুজন প্রামাণিক জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেন আমরা বেসরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত থাকব। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও এখনও এই পদের কাউকে জাতীয়করণ করা হয় নাই। বিগত ১২ বছর ধরে আমরা রাজপাথে বহু আন্দোলন করে আসছি কিন্তু কেউ আমাদের কোন দাবি মেনে নেয়নি। ২০১৭ সালের আদালত কর্তৃক রায় দেওয়ার পরেও সেটা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন আমরা চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছি, দাবি না হাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। ৬৪টা জেলা থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আমাদের সহকর্মীরা।
আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১২ বছর ধরে যে কষ্ট সহ্য করেছি তা বলতে শুরু করলে শেষ হবে না। আর কোনো আশ্বাসে আমারা বিশ্বাসী না।’ তিনি বলেন, ‘কোনো আশ্বাস নয়, সরকারি চাকরি জাতীয়করণের চিঠি নিয়ে বাড়ি ফিরব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। আমরা রাজপথেই থাকব।’